সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও এক আদর্শবান চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার

0
424

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী: যে জাতি গুনীজনদের সমাদরে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয় সে জাতি হতাশার অন্ধকারে কাতরিয়ে আলোর পথ খুঁজে পায়না। সমকালীন মনীষীদের সঠিক মূল্যায়নে আমরা সচেতন নেই বলে অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিরাও সম্মান কুড়ায় এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিকরা বা সমাজের সফল ব্যক্তিরা থেকে যান পর্দার আড়ালে। আমাদের সমাজে অনেকে রয়েছেন যাদের মেধা, শ্রম, ত্যাগে দেশ সমাজ ও জাতি বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সফল রাজনৈতিক ব্যাক্তি ৭১’বীর সৈনিক শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম।
তিনি এক কর্মবীর, সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একজন আদর্শবান জনপ্রিয় ব্যাক্তি। শুধু চিলমারী উপজেলা আর কুড়িগ্রাম জেলাই নয় সমগ্র রংপুর বিভাগের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে, অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঝে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছেন তিনি। মেধা, মনন, কর্ম প্রয়াস শ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে গড়েছেন এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে। তিনি জীবনের সুদীর্ঘ সময়ে সংগঠক, সমাজকর্মী এবং সর্বোপরি একজন মেহনতী মানুষের প্রকৃত জনদরদী হিসেবে অতি পরিচিত মানুষ। নিজ মেধা ও ব্যবস্থাপনা যোগ্যতা গুনে একজন দক্ষ সমাজ সেবক ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা বাসীর মন জয় করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। বারবার নির্বাচিত হয়ে তিনি সমাজের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন একাধারে। দলমতের উর্ধে থেকে মানুষের সেবায় কাজ করাই তার একমাত্র কাজ। এজন্য সর্ব মহলে রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। আর এই জন্যই তিনি বারবার নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে। শওকত আলী সরকার একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন আদর্শ ও দেশাত্ববোধ তাঁকে ভীষন রকম অনুপ্রাণিত করে। ফলে আওয়ামীলীগের রাজনীতির একজন অনুরাগী হিসেবে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তিনি ১৯৪৮ সালের ২০ শে মে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়ারী মৌজা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম আলহাজ্ব এজাব উদ্দিন সরকার মা মরহুমা সরিতন নেছার ৮ম সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ১৯৬৯ সালে কুড়িগ্রাম কলেজ থেকে বি-কম পাশ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষন শুনে জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশের স্বাধীনতা সুর্য্যকে ছিনিয়ে আনতে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। তিনি ১১নং সেক্টরের অধীনে কোদালকাটি, চিলমারী, হাতিয়ার যুদ্ধসহ বিভিন্ন সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যুদ্ধে তা বিশেষ অবদান ও গুলিবৃদ্ধ হওয়ায় সম্মান স্বরুপ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ গেজেটের মাধ্যমে শওকত আলী সরকাকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি নিজের জীবনের ঐশ্বর্য্য ও প্রাচুর্য্যরে কথা ভুলে গিয়ে নিজেকে জনসেবায় আত্ম নিয়োগ করেন। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮৪ ইং সাল পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৫ইং সাল থেকে ৪ বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এলাকার ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার কথা ভেবে চিলমারী উপজেলায় প্রথম চিলমারী ডিগ্রী কলেজ এবং করায়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়, খালেদা শওকত পাটোয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ব্যাপক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ভূমিকাসহ পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন। তিনি প্রায় ত্রিশ বছর যাবৎ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরপরও শত ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর রহমতে সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলেছেন। তিনি ৬ সন্তানের জনক ও একজন সফল পিতা। মোছাঃ খালেদা খানম তার গুনবতী স্ত্রী। ১ম কন্যা ডাঃ সাইয়েদা শওকত জেনী, দ্বিতীয় কন্যা প্রকৌশলী শামিমারা শওকত সানী, তৃতীয়া কন্যা ডাঃ সবনম শওকত রনী, ৪র্থা কন্যা প্রকৌশলী শাফিকা শওকত মনি, ১ম পুত্র প্রকৌশলী সাইফুল¬াহ শওকত জীবন, ২য় পুত্র প্রকৌশলী সাইয়েদ শওকত সুজন। তিনি বিভিন্ন সফলতার কারনে সরকারী ভাবে বিভিন্ন দেশ সফর করছেন। তার বিভিন্ন অবদান ও সফলতার কারনে বিভিন্ন সংগঠনসহ সরকারী ও বে-সরকারী ভাবে একাধিক বার সংবর্ধিত করা হয়েছে। এলাকাবাসী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন সফল এমপি হিসাবে দেখতে চায়। অপরদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে আগামী সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদীয় কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পাবেন বলে এলাকাবাসী আশাবাদী। ভোটারা বলেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলে আগামী সংসদ নির্বাচনে তেনার এমপি হওয়ায় সম্ভবনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here