একটি মেধাবীর রাজউকে ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

0
2645

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ইথিকা (১৬) নামের এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
ইথিকা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান শাখার একজন মেধাবী ছাত্রী ছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, সে সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত হয়েছিল। শিক্ষার্থী ও কিছু অভিভাবকের দাবি, সে চারতলা থেকে পড়েছিল। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ইথিকাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক (সিএমএইচ) হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ মারা যায় সে। পরে তার পরিবারের সদস্যরা স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে ইথিকার লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করেন গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামর চিলমারীতে। উক্ত ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তরা পূর্ব থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক মানিক মাহবুব সেটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পরিতোষ চন্দ্র পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকের বরাদ দিয়ে জানিয়েছেন যতটুকু শুনেছি মেয়েটি সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিল। পরে তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।পরে তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। এক প্রশ্নের জবাবে পরিতোষ চন্দ্র বলেন ওই ভবনে রেলিং আছে । পা পিছলে কি ভাবে পড়লো তা তদন্ত করে বলা যাবে।এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তবে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। তবে একটি সূত্র জানায় তাঁরা শুনেছে ছাত্রীটি পরীক্ষায় খারাপ করায় স্কুল কতৃপক্ষ তাকে ডেকে পাঠিয়েছিল এবং টিসির ভয় দেখানোর কারনে সে হয়তো সিঁড়ি থেকে লাফ দিয়েছে। তবে বিষয়টি সুষ্ট তদন্ত করার দাবি জানান শিক্ষার্থী, অবিভাবকসহ স্থানীয়রা।
স্কুল কর্তৃপক্ষের ভয়ভীতি দেখানোর ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীর কেউ মুখ খুলছে না । প্রশ্ন হচ্ছে , স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন শিক্ষার্থীদেরকে ডেকে নিয়ে ভয় ভীতি দেথাচ্ছে যে , কেউ যদি এই বিষয়ে কথা বলে তবে তার/তাদের বিরুদ্ধে টিসি দেয়া সহ আরো শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা অবলম্বন করা হবে ? সত্য ঘটনা প্রকাশে স্কুল কতর্ৃৃপক্ষের সমস্যা কোথায়? স্কুল কর্তৃপক্ষ কেনই বা সিসি টিভি’র (সিকিউরিটি ক্যামেরা) ফুটেজ তদন্দকারী কর্তৃপক্ষকে দেখাচ্ছে না ? দেশে চলমান আইন শৃংখলার মান দেখে ন্যায় বিচারের আশা করা যায় না , বিধায় ছাত্রীটির অবিভাবক মাতা পিতা স্তম্ভিত হয়ে আছে । স্কুলটি যে প্রশাসনের দ্বারা পরিচালিত তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার মত দেশে বর্তমানের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নাই বলে তারা সহ অনেকে মনে করেন।
যেহেতু দেশে প্রবলতর শক্তির বিরুদ্ধে দূর্বলদের বিচার পাবার পরিবেশ নাই , সেই হেতু এটি একটি স্্েরফ মৃত্যু না, হত্যা, না প্ররোচিত আত্মহত্যা সে রহস্য উদঘাটনের সম্ভবনা আপাততঃ কেউ দেখছে না । স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত সিসি টিভির ক্যামেরার ফুটেজটা পরীক্ষা করে এই মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের জন্য বিবেকবান কর্তৃপক্ষের (যদি থাকে) নিকট আমরা আবেদন জানাই ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here