চিলমারী ভাসমান তেল ডিপো সরিয়ে নেয়ার পায়তারা

0
336

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী:
কুড়িগ্রামের চিলমারী বন্দরে ভাসমান ডিজেল ডিপোগুলোর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ পেয়ে আসছিল চিলমারীসহ পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলার প্রায় ৪ লাখ কৃষকসহ শতশত ইঞ্জিনচালিত নৌ-যান। দিনে পর দিন মাসের পর মাস ধরে ভাসমান ডিপো থেকে ডিজেল সরবরাহ না করায় জ্বালানি সংকটে ভুগছে ওই এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ। কোম্পানীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা সরবরাহ বন্ধ রেখে ডিপো সড়িয়ে নেয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও ফল না পাওয়ায় হতাশ ডিলার ও স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রামের চিলমারী নদী বন্দরে ১৯৮৯ সালে থেকে ভাসমান ডিজেলের ডিপো পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি কোম্পানী নারায়ণগঞ্জের গোদানাইল থেকে ডিজেল সরবরাহ করে আসছিল। এতে করে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুরসহ ব্রহ্মপুত্র নদের শত-শত চরের কয়েক লাখ কৃষক সেচসহ শতশত ইঞ্জিন চালিত পরিবহনের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। বেশ কয়েক বছর আগে পদ্মা ওয়েল কোম্পানী তাদের বার্জ মেরামতের অজুহাত দেখিয়ে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ডিজেল সরবরাহ করলেও যমুনা ওয়েল কোঃ লিঃ গত ক’মাস থেকে তারা জ্বালানী সরবরাহ বন্ধ করায় বিপাকে পরেছে এ অঞ্চলের মানুষ। ডিপো অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পায়তারার প্রতিবাদে ডিপো স্থায়ী করণ ও তেল সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চিলমারীর তেল ব্যবসায়ী সমিতি, কৃষকরা ও স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ডিপো দুটি সরিয়ে নেবায় পায়তারার অভিযোগ করে কতিপয় ডিলার জানান, দিনের পর দিন মাসের পর কেটে যাচ্ছে কিন্তু অজানা কারণে তেল ডিপো তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। যমুনাতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ লিটার এবং মেঘনাতে ধারণ ক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৪লাখ লিটার। গেল বছর যমুনা বার্জে প্রায় ৬২লাখ এবং মেঘনাতে ১০লাখ লিটার ডিজেল বিক্রি করে প্রায় ৫শতাধিক সাব ডিলারের মাধ্যমে। ভাসমান তেল ডিপো দু’টির অনুমোদিত ২২জন ডিলার প্রতি লিটার তেল ৬২ টাকা ৫১ পয়সায় ক্রয় করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। তারা প্রতি লিটার তেল বিক্রি করেন ৬৫ টাকায়। ডিপো দু’টি তেল না থাকায় পার্বতীপুর থেকে সড়কপথে তেল পরিবহনে এক লড়ি বা ৯ হাজার লিটার তেল আনতে অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার টাকা। যা প্রতি লিটারে প্রায় ১ টাকা ৭৫ পয়সা বেশী। এতে করে ডিলাররা তেল কিনছে ৬৪টাকা ২৬পয়সায়। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৬৭/৬৮টাকায়। এদিকে দৃর্ঘদিন পর শনিবার মেঘনা ওয়েল কোঃ লিঃ এর একটি তেলবাহী জাহাজ ৩লাখ লিটার তেল নিয়ে আসলেও প্রায় ৪মাস কেটে গেলেও যমুনা ওয়েল কোঃ লিঃ এর কোন খবর নেই। এ ব্যাপারে যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ডিপো ইনচার্জ তাফাজ্জল হক জানান, জাহাজ সংকটের কারণে তেল সরববরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। জাহাজের সিডিউল না মেলায় ডিজেল আসতে সময় লাগছে। তবে তিনি বার্জ দুটি উঠিয়ে নেবার ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তবে মেঘনা ডিপো ইনচার্জ বলেন তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ এসেছে ২/৩ দিনের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিঃ) মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান ডিপোগুলোতে ডিজেল না থাকার বিষয়ে অভিযোগ পাবার কথা স্বীকার করে জানান, সংকট দুর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here