কমছে বাণিজ্য ঘাটতি

0
143

অর্থনীতি ডেস্ক: বাণিজ্য ঘাটতি কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ কোটি (৬.৬৬ বিলিয়ন) ডলার।
গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৭৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
আমদানি কমায় এবং রপ্তানি বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কমছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ২ হাজার ৩৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৬৭৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এ হিসাবে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ৮২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল।
সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি কমে ১২৬ কোটি ১০ লাখ ডলার হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ২০০ কোটি ৫০ লাখ ডলার ছিল।
তবে সরকারের আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই-নভেম্বর সময়ে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ১১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাংলাদেশে এসেছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এসেছে ১২২ কোটি ৪০ লাখ ডলার।এ হিসাবে এই পাঁচ মাসে এফডিআই বেড়েছে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।এই সময়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ বাবদ দেশে এসেছে ১৮১ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, “যেভাবে আমদানি বাড়ছিল সেটা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপর্যয় ঘটত। বছরের শেষ ভাগে এসে আমদানি কমায় সে ঝুঁকি কেটে গেছে। আমদানি কমায় ব্যালান্স অফ পেমেন্টে ঘাটতিও কমে আসছে। কমছে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি।”
লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ২.৫৬ বিলিয়ন ডলার
চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৪৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
আর ৯৭৮ কোটি ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষ করেছিল বাংলাদেশ।
সাধারণভাবে কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here