অশ্লীল ছবিতে আসক্তির লক্ষণ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব

0
82

হাতের কাছে যখন ইন্টারনেট নামক বস্তুটি সহজলভ্য তখন আঙুলের ছোঁয়াতেই খুলে যায় জ্ঞানের দরজা, বিনোদনের হরেক উপাদান। আর এই বিনোদনের বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা অশ্লীল এবং নোংরা ভিডিওর। অনলাইনের কল্যাণে অশ্লীল এবং নোংরা ছবি এখন  মানুষের হাতের মুঠোয়। আর এ কারণে বহু মানুষই অশ্লীল ছবির নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

অশ্লীল ছবিতে আসক্ত হওয়ার কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে। আপনার সাথে যদি এ লক্ষণগুলো মিলে যায় তাহলে বুঝতে হবে আপনি অশ্লীল ছবিতে আসক্ত। এগুলো হলো-

১. এই নেশায় আক্রান্তরা প্রতিদিন প্রচুর সময় অশ্লীল এবং নোংরা ছবি দেখার কাজে ব্যয় করেন। এ সময় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টা।

২. অশ্লীল ছবিতে আসক্তরা বীর্য স্খলনে সমস্যা হয় কিংবা স্বাভাবিক যৌন জীবনে সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতায় স্বাভাবিক হতে পারেন না।

৩. যারা অশ্লীল ছবিতে আসক্ত তারা সারাদিন অশ্লীল ছবি দেখার পরিকল্পনা করেন।

৪. বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার বদলে অশ্লীল দেখতে পছন্দ করেন এই নেশায় আসক্তরা।

৫. অশ্লীল ছবিতে আসক্তদের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম অশ্লীল ছবি দেখা।

৬. অশ্লীল ছবি দেখার এই নেশায় আসক্তরা এক ধরণের অপরাধবোধ এবং হীনমন্যতায় ভোগেন কিন্তু সহজে এই নেশা ছাড়তেও পারেন না

উল্লেখিত লক্ষণগুলো আপনার সাথে মিলে গেলে আপনার জন্য রয়েছে ভয়াবহ দুঃসংবাদ।

এই আসক্তির কারণে অনেক পরিবারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। মানব দেহের ওপর এই আসক্তির অসংখ্য ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে; এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্কে অক্ষমতা দেখা দেয়। তিরিশ বছর আগেও ৩৫ বছরের কম বয়সী পুরুষদের মাঝে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (erectile dysfunction) এর কথা শোনা যেত না, এই সমস্যা হত শুধুমাত্র বার্ধক্যের কারণে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অতিমাত্রায় অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে পড়ায়  এমন অবস্থা হয়েছে যে, ১৬ বছরের অনেক যুবকেরাও আজ ইরেক্টাল ডিসফাংশনের শিকার। প্রসঙ্গত যখন কোনো পুরুষের লিঙ্গ সময় মত অর্থাত্‍ যৌনমিলনের সময় উত্তেজিত হয়ে উঠে না তখন তাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বলে।

অশ্লীল ছবিতে আসক্ত একজন ব্যক্তি অনেক সময় নিজের স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে উত্তেজনা অনুভব করে না। ফলে সংসারে অশান্তি দেখা দেয় এবং একসময় তা বিচ্ছেদে রূপ নেয়।

এককথায়, অশ্লীল ছবি ভালোবাসার মৃত্যু ঘটায়। অশ্লীল এবং নোংরা ছবি কোনভাবেই স্বাস্থ্যকর না। এটি পুরুষদের যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে, মানসিকতা স্বাস্থ্যকে বিপর্যস্ত করে এবং দাম্পত্য সম্পর্কে ভাঙ্গন ঘটায়।

তাই সুস্থ ও সুখী জীবনযাপনের জন্য এখনই সময় অশ্লীল ছবির নেশা থেকে নিজেকে দূরে রাখা আর নিজের মনের জোর থাকলে তা খুব সহজেই সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here