কত ক্যালোরি পোড়ে ঘুমের সময়

0
125

যখন আপনি রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকেন, আপনার শরীর তখনো কাজ করে, এমনকি আপনি এ সম্পর্কে কিছু না জানলেও। প্রকৃতপক্ষে, আপনার ঘুমের সময় আপনার শরীর কোষ মেরামত ও কোষ বিকাশের গতি বাড়িয়ে দেয়, অন্যদিকে আপনার মস্তিষ্ক প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকে এবং সারাদিন ধরে জড়ো হওয়া তথ্যমালা থেকে অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাতিল করে। এ ছাড়া আপনার শরীর ঘুমন্ত অবস্থায় কিছু আশ্চর্যজনক কাজও করে, যেমন- বেশি কোলাজেন উৎপাদন করা, গ্যাস বেড়ে যাওয়া, স্বপ্ন দেখা ও নাকডাকা।
কিন্তু প্রশ্ন হলো ঘুমের সময় কি শরীরের ক্যালোরি পুড়ে? যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে কতটুকু? হ্যাঁ, ঘুমন্ত অবস্থায় ক্যালোরি পুড়ে এবং তা আপনার ধারণার চেয়েও বেশি। এটা ঠিক যে জাগ্রত অবস্থায় চলাফেরার সময় যত ক্যালোরি পুড়ে ঘুমের সময় ততটা হয় না, কিন্তু ঘুমন্ত অবস্থায় ক্যালোরি পোড়ার পরিমাণ শূন্য থেকে অনেক দূরে, বলেন ঘুমবিষয়ক ওয়েবসাইট টাক ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল ফিশ।
ঘুমের সময় কতটুকু ক্যালোরি পুড়ে?
এটি নির্ভর করছে আপনার শরীরের ওজন, আপনার ঘুমের পরিমাণ এবং আপনার শরীরের তাপমাত্রার ওপর, বলেন হ্যাপি হাউজফুল ডটকমের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ক্যাথি পোজি। তিনি বলেন, ‘ঘুমন্ত অবস্থায় লোকজন গড়ে প্রতিঘণ্টায় প্রতি পাউন্ড শারীরিক ওজনের হিসেবে ০.৪২ ক্যালোরি পুড়ে।’ আপনার শরীরের ওজনকে পাউন্ড হিসেবে ধরে ০.৪২ এর সঙ্গে গুণ করে গুণফলের সঙ্গে আপনি কত ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন তা গুণ করে আপনার আনুমানিক ক্যালোরি পোড়ার পরিমাণ বের করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, মনে করুন যে, আপনার ওজন ১৫৫ পাউন্ড এবং আপনি ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। তাহলে ঘুমের সময় কত ক্যালোরি পুড়ল? প্রায় ৫২০ ক্যালোরি। এটি আপনার এক ঘণ্টা জগিংয়ের সময় ক্যালোরি পোড়ার পরিমাণের প্রায় সমান, বলেন ফিশ।
কিন্তু তাই বলে শরীর চর্চার পরিবর্তে অতিরিক্ত ঘুমানোর কথা ভাববেন না। অতিরিক্ত ঘুম কখনোই ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে না। পক্ষান্তরে, অতিরিক্ত ঘুম হতে পারে অকাল মৃত্যুর কারণ। এখন আপনার জানা আছে যে, একটি ঘুমন্ত শরীর আট ঘণ্টায় যত ক্যালোরি পোড়ায়, জাগ্রত শরীরের তা পুড়তে লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা।
ঘুমের সময় আরও বেশি ক্যালোরি কীভাবে পোড়ানো যায়?
আপনি কিছু উপায় অবলম্বন করে ঘুমন্ত অবস্থায় আরো অধিক ক্যালোরি পোড়াতে পারেন, যেমন- শীতল পাজামা পরা অথবা এমনকি নগ্ন হয়ে ঘুমানো। ক্লিনিক্যাল স্স্নিপ এডুকেটর এবং সাটভা ডটকমের ঘুম বিশেষজ্ঞ টেরি ক্রেল বলেন, ‘শীতল পোশাকে (যেমন- বার্থডে সুট) ঘুমালে বিপাক বাড়তে পারে এবং ওজন হ্রাস পেতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের একটি গবেষণা মতে, ঘুমন্ত অবস্থায় শীতল শারীরিক তাপমাত্রা ক্যালোরি পোড়ানোর কোষকে উদ্দীপ্ত করতে পারে এবং বিপাক বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। পুষ্টি বিশেষজ্ঞ পোজি রাতে হালকা খাবার খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন যে, নিয়মিত ব্যায়াম চর্চা ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফল পেতে সাহায্য করে, যদিও ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ব্যায়াম চর্চা গভীর ঘুমের অন্তরায় হতে পারে।
ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষেত্রে ঘুম যাওয়া ও টিভি দেখার মধ্যে পার্থক্য কী?
আপনি হয়তো এই প্রচলিত ধারণায় বিশ্বাস করেন যে, ঘুমের সময় টিভি দেখার চেয়ে বেশি ক্যালোরি পুড়ে। কিন্তু এটি সত্য নয়, যদিও উভয়ক্ষেত্রে ক্যালোরি পোড়ার পরিমাণ খুব কাছাকাছি। ফিশ বলেন, ‘সোফায় বসে টিভি দেখার সময় যত ক্যালোরি পুড়ে তার প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে ঘুমন্ত অবস্থায়।’ এখন বোঝা গেল যে টিভি দেখলে ঘুমের তুলনায় সামান্য বেশি ক্যালোরি পুড়ে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এটি একটি স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস। টিভি দেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রকৃত সমস্যা হলো, ক্ষুধা অনুভব করা এবং এমন খাবার খাওয়া, যা পুষ্টিমান বিবেচনায় আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। অনেক সময় স্ক্রিন টাইমে যে পরিমাণ ক্যালোরি খাওয়া হয় তা ক্যালোরি পোড়ার মাত্রাকে অতিক্রম করে।
পরিশেষে আপনার জন্য পরামর্শ হলো, অত্যধিক ঘুমের মাধ্যমে ক্যালোরি পোড়ার মাত্রা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করবেন না। ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষেত্রে আপনার জন্য আদর্শ উপায় হলো শরীর চর্চা বা ব্যায়াম অনুশীলন। মনে রাখবেন যে, প্রতিরাতে আট থেকে নয় ঘণ্টার বেশি ঘুম বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, যেমন- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্থূলতা ও বিষণœতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here