লাইলাতুল কদরে যাদের দোয়া কবুল হয় না

0
211

মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী

লাইলাতুল কদর আরবী শব্দ। শবে কদর হল লাইলাতুল কদরের ফার্সী পরিভাষা। কয়েক শতাব্দি মুঘল শাসন এবং উপমহাদেশে ফারসী রাজকিয় ভাষা থাকার কারনে ধর্ম,সাহিত্য,সংস্কৃতি ও বিচার আচারে বহু ফার্সি শব্দ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে একাকার হয়ে গিয়েছে। সালাতের পরিবর্তে নামাজ, সাওম এর পরিবর্তে রোজা, লাইলাতুল কদরের পরিবর্তে শবে কদর মানুষের মাঝে বেশি পরিচিত। সুতরাং লাইলাতুল অর্থ রাত বা রজনী। কদর অর্থ সম্মানীত,মহিমান্বিত। এককথায় লাইলাতুল কদর অথর্ সম্মানীত রজনী। মাহে রমজানে লাইলাতুল কদরের রাত ইসলামী শরিয়ত মতে ফজিলতের দিক দিয়ে অনেক বড়। এ রাতেই ঐশীগ্রন্থ আল কোরআন নাযিল হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, আমি কোরআনকে নাযিল করেছি- লাইলাতুল কদরে (সূরা ক¦দর: ০১)।
রমজান মাস যে মাসে বিশ^ মানবের জন্য পথ প্রদর্শন এবং সু-পথের উজ্জ¦ল নিদর্শন এবং হক বাতিলের প্রভেদকারী কোরআন অবতির্ণ হয়েছে (সূরা বাকারা:১৮৫)
এ রাতকে মহান আল্লাহ্ নিজেই হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রজনী বলে ঘোষনা দিয়েছেন। হাজার মাস বলতে ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান সওয়াব অর্জন করার কথা বলা হয়েছে। এ রাতকে যে কাজে লাগাতে পারেনি রাসূল (সাঃ) তাকে বড় হতভাগার কথা বলেছেন। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে রাসূল সাঃ বলেছেন,হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর নেত্বৃতে ফেরেশতারা পৃথীবিতে চলে আসে এবং প্রত্যেকের জন্য মাগফেরাত কামনা করেন। যারা দাড়িয়ে কিংবা বসে ইবাদত করে থাকেন।
উম্মুল মুমেনিন হজরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত ,তিনি বলেন,আমি রাসূলের খেদমতে আরজ করলাম,ইয়া রাসূলুল্লাহ যদি আমি শবে কদর সম্পর্কে জানতে পারি তবে আমি কি পড়ব? রাসূল সাঃ উত্তর দেন, এভাবে দোয়া প্রার্থনা কর;-
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি (তিরমিজী)।
উম্মতগন চাইলে এ রাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে। রাসূল সাঃ লাইলাতুল কদরের ব্যাপারে বলেন, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে। এরপর তা আমাকে ভূলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা (রমজানের) শেষ দশ দিনেই তা তালাশ কর। আর তার খেজ কর প্রত্যেক বিজোড় রাতে (বুখারী:১৮৭৫)। এ রাতে প্রত্যেকটি আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হয় । তবে ফরজ কাজের মান হল “১” এর মত। আপনার যদি ১ থাকে তাহলে ১ এর পাশে ০ যোগ হবে। যেমন, ১,০০০০০ ইত্যাদি। কিন্তু যদি ১ ই না থাকে তাহলে আমলনামায় শুধু ০ থাকবে । তাহলে পরিষ্কার বোঝা যায় ফরজ ইবাদতের বিকল্প নেই। লাইলাতুল কদর এর পূর্ণময় রাত্রি পাবার পর ও আল্লাহ তায়ালা চার শ্রেণীর মানুষকে ক্ষমা করবেন না।
*মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি।
*মাতাপিতার অবাধ্য সন্তান।
*আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী।
*হিংসা বিদ্বেষ পোষনকারী ও সম্পর্ক ছিন্নকারী
আমরা জানি, রমজান মাসে নফল ইবাদত করলে ফরজ ইবাদতের সওয়াব পাওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কেন? উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি, কোন বর যাত্রী যখন কনের বাড়ীতে যায় তাদের সম্মান কদর অনেক বেশী হয়। তারা যদি কোন ক্ষতিও করে তাতেও কেউ কিছু বলবে না । আবার কোন কারনে যদি বর যাত্রী আসে,কিন্ত বর না আসে এবং যাত্রীগন বলে বর যেহতেু আসবে না রান্নাতো হয়েছে আমরা খেয়ে চলে যাই। খাবার কি পাবার আশা করা যায়? একেবারেই অসম্ভব এমনকি দূর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এটা শুধুমাত্র বর না থাকার কারনেই এ অসম্মান। অনূরুপভাবে রমজানুল মোবারকে নেক কাজের এত মর্যাদা হওয়ার পিছনে একমাত্র কারন এ মাসে নাযিল হয়েছে আল কোরআন। কোরআন নাযিল হওয়ার কারনে এ মাসে সকল নেক আমল কে আল্লাহ তায়ালা এত মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেছেন। অতএব আসুন এ মাসের মর্যাদা কে সমূন্নত রাখতে নিজে কোরআন পড়ি কোরআন বুঝি এবং কোরআন অনুযায়ি আমল করি।
পরিশেষে এ সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারি যে, আমরা নেক আমল গুলো সংশোধন করতে চাইলে উপরোক্ত বিষয়ে সতর্ক হওয়া একান্ত জরুরী। আল্লাহ তায়ালা আমাদের নেক আমল করার তৌফিক দিক। আমিন।

আরবী প্রভাষক,বাছড়া আজিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা।
খতিব,নতুন রেল স্টেশন জামে মসজিদ,কুড়িগ্রাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here