চিলমারীতে ভিজিএফ চাল বিতরণে দুর্নীতি

0
148

চিলমারী প্রতিনিধি:
সকলের মতো ঈদে আনন্দের স্বপ্ন দেখে হতদরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষরাও। স্বপ্ন দেখে একটু ভালো থাকার ভালো কিছু খাবার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেও এগিয়ে আসে সরকার বিতরন করে ভিজিএফ চাল কিন্তু সেই দুঃস্থদের স্বপ্ন নিয়ে খেলায় নামে বিতরণের সাথে জরিত কতিপয় দায়িত্বরতরা। নামে বে-নামে ওজনে কম দিয়ে পকেটে ভয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এই সব নামধারীরা। এব্যাপারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতি। দায়িত্বরত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা যেন অনিয়ম কে নিয়মে পরিনত করেছে ফলে বরাবরের মতো অসহায় গরীব দুখীরা দুঃখের সাগরেই ভাসতে থাকে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্র ও দু:স্থদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ নিয়ে দুর্নীতি, ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। চাল বিতরণে নেয়া হয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি আর কৌশল। এ ছাড়াও তালিকায় ধনী ব্যক্তিরাও রয়েছে বলেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় নামে, বে-নামে তোলা হয়েছে চাল।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে সরকারিভাবে চিলমারীতে ২৫ হাজার ১৬২ জনের জন্য ১৫ কেজি করে ৩৭৭.৪৩ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। তা উপজেলা ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে স্থানীয় ভাবে বিভাজন করেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। আর সেই সুযোগে কতিপয় জনপ্রতিনিধি ভিজিএফ এর চাল বিতরণে নামে বে-নামে মাস্টার রোল তৈরি করে নেয় দুর্নীতির আশ্রয় সেই সাথে সুবিধাভুগিদের ওজনেও চাল দেয়া হয় কম এবং তাদের এই অনিয়ম আর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরাও। আর এই সুযোগে হতদরিদ্র ও দুঃস্থদের জন্য দেয়া চাল সঠিকভাবে বিতরণ না করেই সংশ্লিষ্টরা নিজের পকেট ভরায় আর সুবিধাভোগীরা থেকে যায় সরকারি সুযোগের বাহিরে।
সরজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জানা গেছে, শুধু চাল বিতরণে অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়নি যাদের দেয়া হয়েছে তাদের দেয়া হয়েছে ওজনে অনেক কম। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকজন সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ১৫ কেজির স্থলে তাদের ১২/১৩ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। অষ্টমীরচর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সুবিধাভুগি জানান তাদেরও ১৫ কেজির স্থরের জন প্রতি ১ থেকে ২ কেজি চাল কম দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও অনেকে জানান, চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা কিছু নাম দিয়ে তাদের লোকজনকে দিয়ে কৌশলে চাল তুলেছে। একই অভিযোগ পাওয়া গেছে রমনা মডেল ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। অনেকের পরিবারে একাধিক নাম দিয়ে ১টি রেখে বাকিগুলো সংশ্লিষ্ট জনপ্রনিধিকে দেয়া লাগছে। এছাড়াও নামে, বে-নামেও চাল তুলে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
তবে থানাহাট ইউনিয়নের বিতরনকৃত চাল ওজনে কম দেয়া হয়নি বলে সুবিধাভুগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসাররা আনিত অভিযোগ মানতে নারাজ। এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মানতে রাজি নয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here