বন্ধুর মেয়েকে তিনবছর থেকে ধর্ষণ

0
174

স্টাফ রিপোর্টার:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কঢ়াকাটা এলাকায় বন্ধুর মেয়ে অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া এক শিক্ষার্থীকে নিজের লালসার শিকার বানিয়েছে  অপর বন্ধু। নিগৃহীত মেয়েটি জানিয়েছে যখন সে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী তখন বাবার বন্ধু তাকে প্রথম ধর্ষণ করে। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন বছর যাবত অসংখ্যবার তাকে মিলনে বাধ্য করেছে। বুধবার সকাল ৯টায় মিলনরত অবস্থায় আটকিয়ে ঘটনাটি জনসম্মুখে নিয়ে আসে ধর্ষকের স্ত্রী। এদিকে ধর্ষক প্রভাবাশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি মহল।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কচাকাটা থানার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কেদার গ্রামে। ওই গ্রামের কুদ্দুস প্রধানীর ছেলে দুই সন্তানের জনক মকবুল হোসেন প্রধানী(৪৫) তার শ^শুড় বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষিতাকে প্রথম লালসার স্বীকার করে ২০১৬ সালে। সেই থেকে টানা তিন বছর ধরে একই গ্রামের বন্ধু সকিয়ত মিয়ার মেয়ে কাশেম বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে আসছে। ধর্ষিতা জানায়, বাবার বন্ধু হওয়ায় মকবুল তাদের বাড়িতে প্রায় সময় যাতায়াত করত। যাতায়াতের সূত্রে মকবুলের স্ত্রী মুক্তার সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। সে আরোও জানায়, ব্যাপারীটারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় মকবুল এবং তার স্ত্রী মুক্তা বেগমের সাথে নাগেশ্বরী উপজেলার শাপখাওয়া গ্রামে তার (মুক্তার) বাপের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানেই মকবুল তাকে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে কান্নাকাটি করলে মকবুল তাকে নানান ভয়ভীতি দেখালে কাউকে বলতে পারেনি। এরপর থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় সময় ধর্ষণ করে আসছে। বুধবার সকালে তার বাড়ির মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে পার্শবর্তি ভ্যান চালক শামছুলের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মিলনে বাধ্য করে মকবুল। এদিকে মকবুলের স্ত্রী মুক্তা এসে তাদেরকে হাতে নাতে আটক করে তাকে মারধোর করতে থাকে। পরে একই এলাকার আনছার আলীর ছেলে মিন্টুসহ কয়েকজন গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে। এসময় মকবুল পালিয়ে যায়।

এদিকে মেয়ের এমন কান্ডে লোকলজ্জায় বাড়িতে ঠাই না দিয়ে মেয়েকে বের করে দেয় ভুক্তভোগীর পিতা মাতা। পরে গ্রামবাসী স্থানীয় জুরান আলীর বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখান থেকে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় ধর্ষিতাকে।

সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম হায়দার জানান, মেয়েটির বাবা মেয়েটিকে বাড়িতে তোলেননি তাই স্থানীয় ইউপি সদস্যর জিম্মায় তার বাড়িতে রাখা হয়েছে।

ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা চালাচ্ছি দেখি শেষ পর্যন্ত কি করা যায়।

কচাকাটা থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম  জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here