দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত চিলমারী হিসাব রক্ষণ অফিস

0
387

চিলমারী প্রতিনিধি:
নিয়ম কে অনিয়ম, অনিয়মকে নিয়ম আর সকল নীতিকে তালা বন্ধ রেখে একের পর এক দুর্নীতিতে ভরে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার হিসাব রক্ষণ অফিস। অফিসটি যেন এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। দপ্তরটিতে নানা কৌশলে চাকরীজীবীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করা হয়। এই ঘুষ থেকে বাদ যায় না সরকারী কোন দপ্তর। এমনকি যারা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন, তাদেরকেও ঘুষ বা উৎকোচ দিয়ে পাড় করতে হয় বিভিন্ন বিল। কে দেখবে, কে রুখবে বলার কেউ নাই।
জানা গেছে, শুধু জুন ক্লোজিং এর সময় নয় চিলমারী হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা ও অডিটর, উপজেলা এলজিইডি, হাসপাতাল, পিআইও অফিস, মৎস্য অফিস, আমার বাড়ি আমার খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, শিক্ষা অফিসসহ সরকারী সকল দপ্তরকে জিম্মি করে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুষ ও উৎকোচ আদায় করছে। সরকারী দপ্তর গুলোর বিভিন্ন উন্নয়ন, সংস্কার, ভাউচার, অফিসবিলসহ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সম্মানী ভাতা, টিএবিলসহ বিভিন্ন বিল পাড় করতে ঘুষ বা উৎকোচ না গুনলে তা দিনের পর দিন পড়ে থাকলেও পাড় হয় না। ফলে বিভাগের দায়িত্বরা বাধ্য হয়ে হিসাব রক্ষণ দপ্তরকে দিতে হচ্ছে উৎকোচ। শুধু তাই নয় শিক্ষা বিভাগকে জিম্মি করে দপ্তরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অডিটর নিজেদের ফয়দা লুটে নিচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন হিসাব রক্ষণ অফিসটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হচ্ছে। শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বরতদের সাথে কথা হলে জানা যায় আরো ভয়াবহ চিত্র। আমার বাড়ি আমার খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক উপজেলা সমন্বয়কারী মোছাঃ আমিনা খাতুন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন অফিসের বিভিন্ন বিল পাড় করতে টাকা তো দিতেই হয় এছাড়াও সম্মানী ভাতা, টিএডিএ জন্য গুনতে হয় উৎকোচ। তিনি আরো জানান বিল পাশ করতে অগ্রিম টাকা দিতে হয় না হলে অডিটর বিল পাশ করা তো দুরের কথা আমাদের সাথেও খুব খারাপ ব্যাবহার করে। একই কথা জানান বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। নাম না জানা সর্তে বেশ কিছু কর্মকর্তা জানান, টিএ, ডিএ বা ভ্রমণ বিল পাড় করতে হিসাব রক্ষণ দপ্তরকে দিয়ে হচ্ছে ৫% থেকে ১০%। আর না দিলে তা পাড় করা তো দুরের কথা তাদের অফিসে চাপাও মুশকিল। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা হিসাব রক্ষণ অফিসের ঘুষ বানিজ্য বিষয় স্বীকার করে বলেন বিভিন্ন উন্নয়ন, প্রকল্পসহ যে কোন বিল হোক না কেন তাদের % অথ্যাৎ টাকা (ঘুষ) দিতেই হবে বাধ্যতা মুলক। এছাড়াও অবসর প্রাপ্তদের হয়রানী আর টাকা নেয়ার অভিযোগ তো আছে প্রতিনিয়ত। সদ্য অবসরে যাওয়া হাসপাতালের একজন স্টাফ জানান, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলেও আজ না হয় কাল ঘুরাছে তো ঘুরাচ্ছে এছাড়াও (জিপিএফ) টাকা তুলতে ৪হাজার টাকা দাবি করেছেন অডিটর রহমত আলী। শুধু এক দুজন নয় প্রতিনিয়ম শতশত মানুষ হিসাব রক্ষণ অফিসের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে, হয়ে পড়েছে অসহায়। এ ভাবে অফিসটিতে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হলেও ভুক্তভোগীরা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। অডিটর রহমত আলী নিজেকে ভালো মানুষ দাবি করে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। কোন মন্তব্য না করেই হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা এস এম মোস্তাফা কামালের সাথে কথা বলেন জুন মাসের পর সদ্য আমি যোগদান করেছি। পরে এব্যাপারে পূর্বের দায়িত্বরত হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এগুলোর পিছনে অনেক কথা আছে যা স্বাক্ষাতে বললো তবে অডিটরকে তার ব্যবহার ভালো করতে বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here