নদী ভাঙ্গণে হুমকির মুখে চিলমারীবাসী

0
174

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী:
পানি কমলেও ভাঙ্গে বাড়লেও কাঁেদ চিলমারী। নেই যেন শান্তি। আছে শুধুই চোখের পানি। বছরের পর বছর চলছে ভাঙ্গনের এই যুদ্ধ। কবে কোথায় কখন থাকবে এই যুদ্ধ তা অজানা চিলমারীবাসীর। ভাঙ্গন কবলিত বেশির ভাগ মানুষের নেই থাকার কোন স্থান নেই একটু শান্তির আবাস। একটু সুখের আশায় আশ্রয়ের সন্ধান্তে প্রতি নিয়ত ছুটছে মানুষ। দিনের পর দিন নিঃস্ব করে দিচ্ছে এই নদী ভাঙ্গন। আর সেই ভাঙ্গনের শিকার হয়ে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে চিলমারীর নয়ারহাট ইউনিয়ন। আর হুমকির মুখে পড়েছে স্কুল, কলেজ, আশ্রয়ণ, চলমান স্কুল ভবন, বাজার, বিভিন্ন অফিসসহ শতশত বাড়িঘর ও ফসলি জমি। এছাড়াও ইতি মধ্যে কয়েকশত বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে এবং মানুষকে বানিয়েছে অসহায়।
জানা গেছে, বছরের প্রতি সময় নদী ভাঙ্গনের তান্ডব থাকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। সেই সাথে পানি কমলে থাকে বাড়লে থাকে ভাঙ্গনের তান্ডবলীলা। সেই তান্ডব প্রখর আকার ধারন করেছে পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টির সাথে সাথে। পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টির সাথে সাথে উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের বজড়া দিয়ার খাতা, দক্ষিণ খাউরিয়া, ফেসকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাবে ভাঙ্গনের তান্ডবলীলা দেখা দিয়েছে। সেই সাথে নিমিশেই গিয়ে খাচ্ছে সবকিছু ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মপুত্রের তান্ডবলীলায় ভাঙ্গছে বাড়িঘর, বিলীন হচ্ছে ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সেই সাথে মানুষকে করছে নিঃস্ব বানিয়ে দিচ্ছে ফকির। ব্রহ্মপুত্রের এই ভাঙ্গনের তান্ডবলীলার মুখে রয়েছে নয়ারহাটের একমাত্র দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, কয়েকটি আশ্রয়ণ কেন্দ্র, প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাউরিয়া বাজার, তহশিল অফিসসহ সরকারী বেশকিছু স্থাপনা। এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রামের শতশত বাড়িঘরসহ হাজারো একক ফসলি জমি। নয়ারহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবু হানিফা বলেন যে হারে ভাঙ্গছে এর প্রতিরোধ না হলে নয়ারহাট পুড়ো এলাকা নদী গর্ভে চলে যাবে এছাড়াও ইতি মধ্যে কয়েকশত বাড়িঘর বিলিন হয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম বলেন আমি সরেজমিন গিয়েছিলাম ব্রহ্মপুত্র এখন ভংঙ্কর রুপ ধারন করেছে সব কিছু গিলে খাচ্ছে। দ্রুত ভাঙ্গন ঠেকানো না গেলে চিলমারীর মানচিত্র থেকে নয়ারহাট মুছে যাবে সেই সাথে সরকারী বেশ কিছু স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি আশা করছি দ্রুত ব্যাবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। এব্যপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন বিষয়টি জানতে পেরে তৎক্ষনিক ভাবে কিছু জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু চরাঞ্চল হওয়ায় ভাঙ্গন ঠেকানো বড় কষ্টকর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here