ফুলবাড়ীতে এক মাস ধরে খেয়াঘাট বন্ধ

0
42

রবিউল ইসলাম বেলাল, ফুলবাড়ী:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর-গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর খেয়া ঘাটে (ঘেরুরঘাট) একমাস ধরে পাড়াপাড় বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীর দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। খেয়া ঘাট থেকে লালমনিরহাট জেলা শহরে দুরত্ব কম হওয়ায় প্রতিদিনেই নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট, পশ্চিম-ফুলমতি, গোরকমন্ডল, চর-গোরকমন্ডল এলাকার হাজারো মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়ত করে। কলার আড়ত হিসাবে খ্যাত চর- গোরকমন্ডল এলাকার কলা ব্যবসায়ীরা জীবন-জীবিকার তাগিদে এই ঘাট পাড়ি দিয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলাসহ মোগলহাট, দুরারকুটিহাট, মেগারাম, ভাটিবাড়ী ও কোদাল খাতা হাট-বাজারে গিয়ে কলা বিক্রি করে। তাছাড়া লালমনিরহাট সরকারী কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধশত শিক্ষার্থী এই ঘাট দিয়ে প্রতিষ্ঠানে যায়। কিন্তু দীর্ঘ একমাস থেকে খেয়া ঘাট বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। ঘেরুরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, বেশ কিছু মানুষ নৌকায় করে ধরলা নদী পাড় হবার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সকাল থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও ঘাটের ইজারাদার বা নৌকার মাঝি কারও দেখা না পেয়ে অনেকেই হয়রান হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, লালমনিরহাট জেলার মিজান মিয়া নামের এক ব্যক্তি কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ হতে মানুষ, যানবাহন ও মালামাল পাড়াপাড়ের জন্য ঘেরুরঘাট ৭০ হাজার টাকায় ইজারা নেন। নিয়ম অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ঘাট পরিচালনা কথা থাকলেও ২৯ জুলাই পর্যন্ত তা চালু হয়নি। আর পুরাতন ইজারাদার ওবাইদুল হক তার নৌকা ও ঘর সড়িয়ে নিয়েছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন পাড়াপাড়কারী ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
লালমনিরহাট সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া, নুরনবী, মুদি দোকানদার নুর ইসলাম, আশরাফ আলী জানান, ঘাট বন্ধ থাকায় একমাস ধরে স্কুল কলেজ যেতে পারছি না, আনতে পারছিনা দোকানের মালামাল।
ঘাট এলাকার স্কুল শিক্ষক রেদওয়ানুল ইসলাম জানান, ঘাট পাড়াপাড় একমাস ধরে বন্ধ থাকায় দ্রুত ঘাট চালুর জন্য গত ৮ জুলাই কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে শতশত মানুষের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ঘাট চালু হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মাছুমা আরেফিন জানান, ইজারাদার কেনো একমাস ধরে ঘাট বন্ধ করলো এ বিষয়ে জেলা পরিষদ থেকে ওই ইজারাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠি আমাদের দপ্তরেও এসেছে। তবে আজ কালের মধ্যে ঘাট চালু না করলে ইজারাদার বাতিল ঘোষনা করে নতুন ভাবে ইজারা দেয়া হবে। #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here