সিরাজগঞ্জে ৪৫ মণ রাজাবাবুর দাম ১৫ লাখ টাকা

0
37

ফারুক হাসান কাহার, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ):
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা গ্রামের মৃত মোকছেদ ব্যাপারীর ছেলে মানিক ব্যাপারীর (৫৫) গরুর খামারে এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ২২টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ বছর বয়সী ষাড় রাজাবাবুর ওজন হয়েছে ৪৫ মণ। এর দাম হাকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। গরুটি ঈদের ১ সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা কোরবানির পশুর হাটে তোলা হবে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ষাড় গরুটিকে এক নজর দেখতে শত শত মানুষ মানিক ব্যাপারীর বাড়িতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে। এ ভিড় সামাল দিতে মানিক ব্যাপারী জন প্রতি ৭ হাজার টাকা বেতনে ২ জন পাহারাদার ও পরিচর্চাকারী নিয়োগ করেছেন। এদের মধ্যে রতন সরকার জানান,প্রতিদিন ভিড় সামলাতে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো জনান,রাজাবাবুকে স্পেশাল কেয়ার নেয়া হয়। কারণ এর ওজন ও আকার অন্য গরুর চেয়ে ২/৩ গুণ বেশি। তাই একে সম্পূর্ণ সুষম খাদ্য যেমন, কাঁচা ঘাস,তিল ও সরিষার খইল,ছোলা,গম ও ভুট্টার ভুষি,ভাতের মার ও ভাল মানের খর খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন সাবান ও শ্যাম্পো দিয়ে গোসল করানো হয়। উন্নত পরিবেশে একে রাখা হয়। রাতে মশা তাড়াতে কয়েল জ¦ালানো হয়। এ ছাড়াও তাকে রাতে মশুরির মধ্যে রাখা হয়। যাতে কোন রকম রোগ জীবাণু তাকে আক্রমণ করতে না পারে।
রাজাবাবুকে দেখতে আশা গালা ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের শাকিল রানা জানায়, সে জামিরতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। স্কুলে এসে রাজাবাবুর কথা শুনে টিফিনে দেখতে এসেছে। সে এর আগে এতো বড় ষাড়গরু আগে কখনো দেখেনি। একই ইউনিয়নের বাশুরিয়া গ্রামের নাহিদ আলম একই কথা জানালো। একই স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র রাকিবুল ইসলাম সুমন,আশিকুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম অরণ্য জানায়,তাদের এলাকার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় আকারের ষাড় গরু। তাই প্রায় প্রতিদিনই টিফিনের ফাঁকে গরুটিকে একনজর তারা দেখতে আসে। তারা আরো জানায়, তাদের স্কুলের অনেক ছাত্রই আসে এ ষাড় গরুটিকে দেখতে। জামিরতা গ্রামের আছিয়া খাতুন,ময়না খাতুন,আদুরি বেগম জানান, এটা একটা ছোটখাটো হাতির মত। এর আগে আর এতো বড় ষাড়গরু চোখে দেখিনি। তাই কাজের ফাঁকে সময় পেলে গরুটিকে দেখতে আসি। যত দেখি ততই ভাল লাগে। এ বিষয়ে গরুর মালিক মানিক ব্যাপারী বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে গরু লালন পালন করছি। প্রতি বছর কোনবানির হাটে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৪০/৪৫টি করে ষাড়গরু বিক্রি করি। এগুলোর দাম ২, আড়াই লাখ থেকে ৪, সাড়ে ৪ লাখের মধ্যে থাকে। এবারই প্রথম ৪৫ মণ ওজনের রাজাবাবুকে ফতুল্লার হাটে তুলতে যাচ্ছি। তিনি বলেন,এরই মধ্যে বাড়ির উপর এসে একাধিক ক্রেতা ১০ লাখ টাকা দাম বলেছে। কিন্তু আমি সর্বশেষ ১৫ লাখ টাকা বলে দিয়েছি। যদি এ দামে কেউ আগ্রহী হয়,তাহলে এখানেই বিক্রি করব। তা না হলে ঈদের ১ সপ্তাহ আগে ফতুল্লার কোরবানির হাটে নিয়ে যাব। তিনি আরো বলেন, সেখানে এ দামে আমার পরিচিত অনেক ক্রেতা রয়েছে। আশাকরি এ দামে বিক্রি করতে পারব। এতো বড় বিশাল ষাড় গরুটিকে কি ভাবে ফতুল্লার হাটে নিবেন,জানতে চাইলে তিনি বলেন নৌপথে নেয়া হবে। এরই মধ্যে ৩৫ হাজার টাকায় বড় আকারের ইঞ্জিন চালিত শ্যালো নৌকা ভাড়া করেছি। সেটাতে করেই নিয়ে যাওয়া হবে।
মানিক ব্যাপারীর মেঝ ছেলে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র শাওন আহমেদ জানায়, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই সে সার্বক্ষণিক ভাবে রাজাবাবুর কাছেই থাকে। এটি তার খুব প্রিয়। সে গরুটিকে খুব ভালবাসে। নিজ হাতে খর ও ঘাস খাওয়ায়। গরুটিও তাকে খুব পছন্দ করে। সে কাছে গেলে গুতোয় না। খুব শান্ত ভাবে তার কাছে থাকে। গলা এগিয়ে দেয়। মানিক ব্যাপারীর স্ত্রী বিলকিস পারভীন বলেন,গরুটি যেন আমাদের পরিবারের একজন। সে আমার সন্তানের মতই আদরে বেড়ে উঠেছে। বিক্রি করতে মন চায় না। কিন্তু এতো বড় ভারি গরু রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর যত্ন ও পরিচর্চায় ২ জন লোক লাগে। তাদের সার্বক্ষণিক ওর পিছনে কাজ করতে হয়। এতেওর পিছনে খরচও বেড়ে গেছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার বিক্রি করে দেব। এ জন্যই আগামী ১ সপ্তাহ পর একে ফতুল্লার হাটে নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here