রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

0
294

বিশেষ প্রতিবেদক:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সালু তার নিজের বসতভিটায় মাটি কেটে নিলেন ৪০ দিনের কর্মসূচীর শ্রমিক দিয়ে। ১০ শ্রমিক একটানা ৭দিন ব্যবহার করেন তার নিজস্ব বসতভিটায় মাটি কাটার কাজে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে একই পরিষদের ৮জন সদস্য বাদি হয়ে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
৪০ দিনের কর্মসূচীর শ্রমিক দিয়ে নিজের বাড়ির মাটি কেটে নেয়া ছাড়াও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন পরিষদের সদস্যরা। চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সালুর একগুয়েমী আচরণ এবং সদস্যদের মতামত গ্রহণ না করা। এতে পরিষদের ৮জন সদস্য গত ৬ মাস ধরে একটানা কর্মবিরতি পালন করে আসছে। এক বছর ধরে পরিষদের মাসিক সভাও হয় না বলে জানা গেছে। চেয়ারম্যানের ওইসব অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ একাধিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করলেও কোনো তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় পরিষদের বঞ্চিত সদস্যরা বিষয় গুলো লিখিত ভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এলজিএসপি কর্মসুচীর একটি প্রকল্প সভাপতি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সাহিদা খাতুন। অথচ কোনো প্রকার রেজুলেশন ছাড়াই ওই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের চেক প্রদান করেন অন্য ওয়ার্ডের সদস্য লাভলী খাতুনকে। টিআর ও কাবিখা প্রকল্পভুক্ত রাস্তায় অতিদরিদ্র কর্মসুচীর শ্রমিকদের দিয়ে মাটি কেটে টিআর, কাবিখার বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎও করেছেন ওই চেয়ারম্যান। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত নুরানী মাদ্রাসায় একই স্থানে টিআর ও কাবিখার ৬টি প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। জনস্বার্থে যেখানে প্রকল্পের দরকার সেখানে না দিয়ে ভালো রাস্তায় প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মাসৎ করেন চেয়ারম্যান। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের খোয়ার ও খেয়া ঘাটের ইজারার অর্থ একাই পকেটে ভরেন চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ান পার্সেন্ট ও ফাইভ পার্সেন্ট’র অর্থ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পরিষদের সদস্য রবিউল করিম, রবিউল ইসলাম রানা, শাহিদা খাতুন, শাহ আলম, আরশাদ হোসেন হেলাল, ইব্রাহিম খলিল, কলিম চান ও শাহিদা আক্তার ৮ সদস্যের সম্মানি ভাতা দেয়া হয় না গত এক বছরের বেশি সময় ধরে। রবিউল ইসলাম রানা বলেন, ‘চেয়ারম্যান তার একক সিদ্ধান্তে সব কিছু করেন। সদস্যদের কোনো মতামত নেন না। ভাগবন্টনে অনিয়ম করেন। দুই বছর পর পর প্যানেল চেয়ারম্যান পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও তিনি তা করেন না। আমাদের সঙ্গে খারাব আচরণ করেন।’
এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বীপঙ্কর রায় বলেন, ‘সদর ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন পরিষদের সদস্যরা। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে ডেকে বার বার সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সালু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম দুর্নীতি করি না। আমার পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে দুর্নীতি করার সুযোগ না দেয়ার কারনে তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করেছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here