সেই সুরভীর পাশে ইউএনও

0
213

চিলমারী প্রতিনিধি:
ফুটফুটে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিল সৌরভী আক্তার। আদরেরও কমতি ছিল না। কিন্তু হঠতেই দেহে বাসা বাধে নাম না জানা রোগ। চিকিৎসকরাও তার রোগ নির্ণয় করতে পারেনি। ফলে এক সময় বয়সের তুলনায় ওজন অনেক বেড়ে যায় (৪বছর বয়সে ২৫ কেজি)। সেই সময় প্রায় দেড় বছর আগে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ পায় “সুরভী (সৌরভী) বাঁচতে চায়”। অভাব থাকলেও পরিবার হাল ছেড়েনি কিন্তু এক পর্যায়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে পিছিয়ে আসেন তার পরিবার। এর মধ্যে সুরভীর ওজন কমলেও মানসিক অবস্থায় পরিবর্তন হয়। অভাবী সংসার দেখাশুনার অভাবে তাই বিভিন্ন সময় তাকে বেঁধে রাখতো পরিবারের লোকজন। অসুস্থ্য মেয়ের সাহায্যের জন্য সৌরভীর পিতা অনেক বার গিয়েছিল সমাজ সেবা অফিসে কিন্তু পায়নি কোন তাদের সহায়তা। এভাবে পেড়িয়ে যায় মাসের পর মাস এরই মধ্যে গত মাসে বন্যার সময় তার পরিবার আশ্রয় নেন উপজেলা হেলিপ্যাডে। চারদিকে পানি থাকায় পরিবারের লোকজন তাকে খুটির সাথে বেঁধে রাখে এসময় খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় চিলমারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার গোলাম মোস্তফার নেতৃত্রে তার টিম সুরভীকে উদ্ধার করে (১৮ই জুলাই) এবং বেঁধে না রাখার জন্য পরামর্শ দেয়। পরবর্তিত্বে আবারো তাকে বেঁধে রাখলে চিলমারী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস টিম তাকে শিকল মুক্ত করে। পরে শুক্রবার বিকালে সুরভীর খোঁজ নিয়ে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা। এসময় সুরভীর সুরক্ষার জন্য পরিবারের হাতে নগত অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এছাড়াও তার পরিবারকে সরকারী ঘর, সোলার, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সহযোগীতার আশ্বাস দেন চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক সুরভী আক্তারকে বৃহস্পতিবার শিকল মুক্ত করা হয়েছে। ইতি মধ্যে শিশুটির বাড়ী পরিদর্শন করেছি ডিসি স্যারের নির্দেশে শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ও সহযোগিতা করার পাশাপাশি শিশুটির পরিবারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প “জমি আছে ঘর নাই” প্রকল্প হতে ঘর দেয়ার পাশাপাশি শিশুটিকে প্রতিবন্ধী যাচাইপূর্বক তাকে প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সুরভী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়ন এর জুম্মাপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলামের কন্যা। পরিবার সুত্রে জানা গেছে শিশুটি সিজোফ্রেনিয়া নামক সাইকোসিস রোগে আক্রান্ত তাই শিশুটি দিকবিদিক ছোটাছুটি করে এবং পানিতে লাফ দেয় জন্য তার পরিবার তাকে বেধে রাখে। এসময় প্রশাসনের সহযোগীতা ও আশ্বাস পেয়ে সুরভীর পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here