ফুলবাড়ীতে সেতু হস্তান্তরের নব্বই দিনের মাথায় ভেঙ্গে পড়ছে

0
77

রবিউল ইসলাম বেলাল, ফুলবাড়ী:
কুড়িগ্রামের পুরাতন স্টেশন এলাকার এ,টি,এম দেলদার হোসেন টিটু নামের ঠিকাদার সেতুটি নির্মাণ করেন। গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনীরাম গ্রামের (বাঘমারার) চরে নব্বই দিনের মাথায় সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করার পড়ে সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে। অনিয়ম নি¤œ মানের র্নিমাণ সামগ্রী ও পরিমাণে কম রড ব্যবহার করে কাজ করায় এ্যাপার্টমেন্ট ওয়ালসহ সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে। আবাসনগামী রাস্তার খালের ওপর ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ৩০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬”শ ৫৬ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
বাঘমারার পূর্বধনিরাম এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) যোগসাজসে নি¤œ মানের সামগ্রী দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করেন। রড, সিমেন্ট, পাথর স্টিমেটের চেয়ে পরিমাণে অনেক কম ব্যবহার করেছে। এছাড়াও নকশা অনুযায়ি র্নিমাণ ক্রুটি লক্ষনীয়। এলাকাবাসী মোছা. মরিয়ম বেগম (৪৫), মোছা. নাজমা বেগম (৪০), মো. ওবাইদুল হক (৪৮), মো. বজলে রহমান (৫০) সহ অনেকে জানান, ঢালাইয়ের সময় পাথর পরিষ্কার না করে কাঁদামাটি যুক্ত স্থানীয় বালু ব্যবহার করে ঢালাই করেছেন। বালু ও পাথরের তুলনায় সিমেন্ট কম দিয়েছে। নি¤œ মানের কাজের প্রতিবাদে সে সময় এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) সবুজ কুমার গুপ্ত এসে কাজ বন্ধ না করার জন্য তাদেরকে হুমকি ধমকী দেন। এসময় স্থানীয়দের সাথে কর্মকর্তার বাকবিতন্ডতা হয়। সেদিনের মতো কাজ বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবারও নি¤œ মানের সামগ্রীতে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। সেতুটির এ্যাপার্টমেন্ট ওয়াল, বীম ও ছাদসহ সব ধরনের ঢালাইয়ের সময় ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার না করে শুধুমাত্র বাঁশ ব্যবহার করে কাজ শেষ করে ঠিকাদারের লোকজন। স্থানীয়রা আরও বলেন, ঈদুল আযহার ১০দিন আগে ভার্টিক্যাল ওয়ালে ফাটল ধরে। আগের দিন (১১ আগষ্ট) এটি ভেঙ্গে পড়ে। যে কোন সময় সম্পূর্ণ ভাবে সেতুটি ভেঙ্গে পড়বে। এতে প্রাণহানিসহ মারাত্মক দূর্ঘটনাও ঘটতে পারে। পূর্ব ধনীরাম আবাসনের ৯০টি পবিারসহ (বাঘমারার) চরের এক হাজার পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সেতুটি দিয়ে। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয়রা বাঁশের পাটাতনের সাঁকো দিয়ে কোন রকম চলাচল উপযোগি করে তুলেছে।
এব্যাপারে নির্মানাধীন কাজের ঠিকাদার এ,টি,এম দেলদার হোসেন টিটুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, সেতুর কাজ ভালো ভাবে কাজ শেষ করেছি। কিন্তু বন্যার কারনে সেতুটির পাঠাতন ভেঙ্গে গেছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( পিআইও) সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, ঘটে যাওয়া বন্যায় সেতুটির নীচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আরেফিন জানান, সেতুটি বন্যা নাকি নি¤œমানের কাজের কারণে ভেঙ্গে পড়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here