ভূরুঙ্গামারীতে সেতুর উপর বাঁশের সাঁকো

0
59

ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু সাত মাস যেতে না যেতেই ভেঙে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ওই এলাকার প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের নদী বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামের চার মাথা এলাকার একটি খালের উপর এলজিএসপির ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের বরাদ্দের ৭ লাখ টাকা দিয়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রায় ২৫ ফুট লম্বা ও আট ফুট প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। জুলাই মাসে সেতুটি ভেঙে যায়। সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে নদী বিচ্ছিন্ন এলাকার সাথে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অসুস্থ্য ব্যক্তিদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় অবস্থিত দুটি বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা যাতায়াতের ক্ষেত্রে সেতুটি ব্যবহার করে। ভোগান্তির শিকার এলাকাবাসী জানান, সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় এবং নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে মনগড়া নকশায় সেতু নির্মাণ করায় সেতুটি সাত মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে সেতুর উপর প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে মানুষজন বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করছে।
সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ও সেক্রেটারি ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান ও সুফিয়া বেগমের নিকট জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, আমরা কাগজ-কলমেই প্রকল্প সভাপতি-সেক্রেটারি।
চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউছুব জানান, নির্মাণ কাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার ও মনগড়া নকশার অভিযোগ সঠিক নয়। যে খালের উপর সেতু নির্মাণ করা হয়েছে তা বেশ বড়, এলজিএসপির সীমিত বরাদ্দ দিয়ে ওই খালের উপর বড় আকারের সেতু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না। জনগনের ভোগান্তি লাঘবে খালের উভয় পাশে মাটি ভাট করে আয়তন কমিয়ে এনে সেতু নির্মাণ করা হয়। বন্যায় সেতুর উভয় পাশের ভরাট কৃত মাটি ধুয়ে যাওয়ার কারণে সেতুর উইং ওয়াল ধসে পড়ে। দ্রুত সেতুটি মেরামত করে যাতায়াতের সমস্যা সমাধান করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান জানান, অবকাঠামো গত দুর্বলতা অথবা বন্যার কারণে সেতুটির এই অবস্থা হয়ে থাকতে পাড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here