ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ও জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে বানভাসীরা

0
41

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী:
চলছে মেরামত চলছে চেষ্টা ঘুরে দাঁড়ানোর। বানভাসীরা এখন জীবনযুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত সময় করছে পাড়। বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খড়ার কবলে প্রায় সময় কোন কোন দুর্যোগের কবলে থাকতে হয় এই অঞ্চলের মানুষকে আর ভাঙ্গন যেন লেগে আছে আটার মতো পিচু ছাড়ছেইনা। কখনো বন্যা কখনো খড়া কখনো অতিবৃষ্টি কেড়ে নেয় কৃষকের ফসল, ভেসে নেয় সম্পদ আর এনে দেয় চোখের জল। আবার ভাঙ্গন কেড়ে থাকার স্থান টুকুও। এবারেও তার বিপরিত কিছু ঘটেনি। এবারেও ক্ষত বিক্ষত করে ক্ষত চিহ্ন রেখে গেছে বন্যা। ভাসিয়ে নেয় সাজানো সংসার সাথে বাড়িঘর নষ্ট করে দিয়েছে জমির ফসল। অনেকেই সর্বশান্ত করে বিদায় নিয়েছে বন্যা। আবার ভাঙ্গন কেড়ে নিছে অনেকর মাথা গোজার শেষ সম্বল আবাস টুকু। বন্যার পানি আর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন গ্রামের পর গ্রাম, রাস্তা সড়ক, গাছপালাসহ বাড়িঘর দিয়েছে লন্ডভন্ড করে। রেখে গেছে ক্ষত চিহ্ন। চোখের জলেই যেন এখন অনেকের নিত্য সঙ্গি। তবুও থেমে নেই ভানভাসী ও ভাঙ্গন কবলিত মানুষরা জীবন যুদ্ধে নেমে পড়েছে তারা। চায় না তারা হার মানতে নেই শক্তি নেই সম্বল তবুও চেষ্টা করছে ঘুরে দাঁড়ানোর।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার সর্বনাশী খেলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার হাজার হাজার পরিবার। বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া পারিবার গুলো নিজ নিজ ঘরবাড়ি মেরামত করতে ব্যস্ত সময় পাড় করলেও বন্যা ও ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিস্ব পরিবার গুলো রয়ে গেছে বাঁধ, কেঁচি সড়কসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে। কথা হয় কাঁচকোল বাজার এলাকার শহিদুলের সঙ্গে তিনি জানান বড়ই কষ্ট আর সাদ করে একটি ঘর (বিল্ডিং) তুলেছিলাম ঘরে আসবাবপত্র সবেই ছিল কিন্তু হঠাৎ বন্যার পানি চিলমারী রক্ষা বাঁধ সড়কটি ভেঙ্গে আমার সাদের ঘরসহ সাজানো সংসার ভেসে নিয়ে সব চুরমার করে দিয়েছে। তিনি আরো জানান বাড়ির পাশেই একটি ছোট দোকান ছিল তার এবং সেটাই ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস বানের পানি সেই দোকানটিও মালামালসহ ভেসে নিছে। জোড়গাছ মন্ডলপাড়া এলাকার তারাবানু স্বামী ও ৪সন্তানকে নিয়ে তার বসবাস। স্বামী আজগর দিন মজুর কাজ করলে চলে না করলে সমস্যায় পড়ে। অভাব থাকলেও ছিল সুখ। কিন্তু এবারে বন্যায় তছনছ করে দিয়েছে তার সাজানো সংস্যার। বন্যা পানির তোড়ে ভেসে গেছে ঘর। এর উপর প্রায় ১মাস ছিলনা হাতে কোন কাজ। পেটের খিদা মিটাতে বাড়িঘর বিধস্ত রেখেই থাকেন কাজের সন্ধানে। ঘরবাড়ি জমি হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন রাহেনা এখনো রয়েছেন বাঁেধর রাস্তায় সরকারী তাবুতে। স্বামী রিক্সা চালক সারাদিন রিক্সা চালিয়ে যা পান তাই দিয়েই চলে না সংসার এর উপর ঘর ঠিক করবেন কি ভাবে সেই চিন্তায় যাচ্ছে দিনকাল। কথার প্রসঙ্গে মারুফা বেওয়া অভিযোগ করে বলেন আপনাগো কি কমো যা কিছু অনুদান আইসে সইগ তো চরতে যায়। হামার গুলেক তো চোখে দেখেন না। শুধু তারাবানু, রাহেনা, মারুফা নয় এদের মতো হাজার হাজার পরিবার বন্যা আর ভাঙ্গনের শিকার হয়ে অতি কষ্টে দিনাপাত করছেন। এরপরও অনেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চালিয়ে যাচ্ছে তাদের জীবন যুদ্ধ। তাঁেদর চোখে জল শরীরেই নেই শক্তি কিন্তু হারিয়ে যায়নি তাদের মনোবল। তাদের এখন একটাই দাবি ত্রাণ দিয়ে নয় কাজ দিয়ে সহযোগী করা হক। তবে এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে ছিল শ্রমজীবি মানুষ জন। বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্গত এলাকার লোকজনের হাতে কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছে তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here