দখলদার ইউনুছের অত্যাচারে গ্রামবাসীরাও আতংকে

0
336

কুড়িগ্রামে ১০লাখ টাকা মূল্যের আড়াই শতাধিক ফলদ-বনজ বৃক্ষ কর্তন;
সদর পুলিশকে মামলা দিয়েও প্রতিকার পায়নি ব্যাংকার ইলিয়াস আলী
স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রাম সদরের কাঠালবাড়ী এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ইলিয়াস আলী খন্দকারের ২৫শতক জমির ফলদ ও বনজ আড়াই শতাধিক বৃক্ষ জোড়পূর্বক কেটে নেয় প্রভাবশালী ইউনুছ আলী। নিধনকৃত বৃক্ষের বর্তমান বাজার মূল্য ১০লক্ষাধিক টাকা। থানা পুলিশকে অবহিত করবার পরও ২০/২৫জনের করাতি এবং সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তিনদিন ধরে এ গাছ কর্তন করা হলেও প্রতিকার মেলেনি। এ অন্যায় ও অধর্মকে প্রতিহত করতে গ্রামবাসীরা সালিশ বৈঠক করেন। এ সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত ইউনুছ জোড়পূর্বক গাছকর্তন, বিবাদীর উপর জুলুম ও মারপিটের কথা স্বীকার করলেও আপোষ-মিমাংসা মানতে অস্বীকার করেন। উল্টো গ্রামের মহতদের চাদাবাজিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেয়ার হুমকী দেয়। ইউনুছ কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের সেরেস্তাদার হওয়ায় পুলিশও তাকে ভয় পায়। ফলে ঘটনার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি। নেয়নি কোন আইনি পদক্ষেপ। এখন নিরাপত্তাহীনতার কারনে ইলিয়াস আলী নিজ বাড়ি আসতে পারছেন না। গ্রামবাসীরাও আতংকে দিনাতিপাত করছে।
নিজের জীবনের নিরাপত্তা, জমি উদ্ধার,কর্তনকৃত ১০লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছের ক্ষতি পূরণ এবং দখলবাজ,বৃক্ষ খেকো ও সন্ত্রাসী ইউনুছ আলীর বিচারের দাবিতে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নির্যাতিত বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ইলিয়াস আলী খন্দকার।
ইলিয়াস আলী খন্দকার লিখিত অভিযোগে আরো জানান, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক সদরঘাট শাখা ঢাকায় উপ-পরিচালক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তার বড় ভাই ইউনুছ আলী খন্দকার কুড়িগ্রামের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তাদার হিসাবে কর্মরত। ইউনুছ আলী বিজ্ঞ আদালত ও বিচারকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে আমার জমি জোড়পূর্বক দখল করে নেয়। সেই সাথে এ জমিতে থাকা কাঁঠাল, নিম, মেহগিনি, গামার, আম ও শিসব জাতের বড় বড় আইড়াই শতাধিক গাছ কেটে নেয় । যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। ৩১আগস্ট প্রথম দফা এবং এর পরবর্তীতে ১২ সেপ্টেম্বর ও ২০ সেপ্টেম্বর তিন দফায় সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ গুলো কেটে নেয়। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলেও ইউনুছের ভয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমি বিষয়গুলো লিখিত ভাবে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ এবং পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। থানায় এজার দিয়েছি। কোন প্রতিকার মেলেনি এখন পর্যন্ত। আমি এখন জীবনের ঝুকিতে রয়েছি। নিরাপত্তাহীনতায় এখন আমি বাড়ি ছাড়া। গ্রামবাসিরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাদেরকেও ভয়ভিতি দেখাচ্ছেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি আরো জানান, পিতা সৈয়দ আলী খন্দকার মারাগেলে পৈত্রিক সুত্রে দুই ভাই ৫একর জমির মালিক হন। এরমধ্যে ইলিয়াস আলীর ভাগে পরে আড়াই একর জমি। ২০১১সালে ইউনুছ আলীর ৯৫ শতক জমি ইলিয়াস আলী সাব-কবলায় ক্রয় করেন। কিন্তু সম্প্রতি ইউনুছ আলী এই দলিল বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করেন। (মামলা নম্বর ‘অন্য মোকদ্দমা’ নং-৩৪/১৯)। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
শিবরাম ফকিরপাড়া এলাকার মহত এবং সালিশ বৈঠকের সভাপতি প্রাক্তন শিক্ষক আহম্মদ আলী জানান, ইউনুছ আলী’র বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সত্য। আমাদের সামনে ইউনুছ আলী তার অপরাধের কথা স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হন। ৭ সেপ্টেম্বর এ সালিশের ঘটনা ঘটে। কিন্তু সালিশের একদিন পর ইউনুছ আলী তার মত পাল্টিয়ে বলেন ‘আমি গাছ তলার বিচার মানি না। আমি বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করি, জজ, ম্যাজিস্ট্রেটগণ আমার কথামত চলে…’। উল্টো সালিশে অংশগ্রহনকারী গ্রামের মহতদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানোর হুমকী দেয়।
প্রতিবেশী আব্দুল হক ব্যাপারী, আরিফুর রহমান, আউয়াল প্রামানিক, আরিফুর রহমান জানান, ইউনুছ আলী আগে থেকেই বেপরোয়া টাইপের। ক্ষমতার দাপট নিয়ে চলে। অসহায় ও নিরিহদের অত্যাচার, নির্যাতন এবং নানা ভাবে হয়রানী করে আসছে। ইলিয়াছ আলী’র জমির মূল্যবান গাছ জোরপূর্বক কেটে আতœসাৎ করেছে। এটা একবারেই অধর্ম কাজ।
অভিযুক্ত ইউনুছ আলী তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা চলছে। আমার ৯৫শতক জমি সে রেজিস্ট্রি করে নিলেও মূল্য পরিশোধ করেনি। তাই দলিল বাতিলের মামলা করেছি। তাই আমার জমির গাছ আমি কেটেছি।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ কয়েক দফা ঐ এলাকা পরিদর্শ করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। ইউনুছ আলী আদালতে চাকুরি করায় তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়। আর বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি দু’ভাইয়ের মধ্যে মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলায় পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ঘটনাস্থল থেকে গাছ কর্তন কালে আব্দুল বাতেনসহ ৪জন করাতিকে আটক করা হলেও পরে মুসলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here