কুড়িগ্রামে হস্তান্তরের নয় মাসেই কোটি টাকার রেল স্টেশন ভবন ঝুঁকিতে

0
45

স্টাফ রিপোর্টার:
ভবনের ছাঁদ ছুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। আর তাতেই ভিআইপি রুম পানিতে ছয়লাব। দেয়ালের স্থানে স্থানে ফাটল জানান দিচ্ছে কাজের মান। পা দিয়ে ঘষলেই ছাদের প্যাটার্ণ ষ্টোন (ওয়ারিং কোর্স) ভেঙে যাচ্ছে। বেড়িয়ে আসছে বালু আর কিছু ছোট পাথর। এই চিত্র কুড়িগ্রাম রেল স্টেশনের সদ্য নির্মিত ভবনের। ১ কোটি টাকায় নির্মিত এই ভবনের ঠিকাদার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের সহায়তায় নি¤œমানের কাজ করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ওই ঠিকাদার। এলাকাবাসী এসব কাজের প্রতিবাদ করলে স্থানীয় ভাড়াটে মাস্তান দিয়ে কয়েকজনকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। মামলা আর হুমকির ভয় দেখানো হতো অহরহ। থানার পুলিশও আনা হতো। তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা অন্যান্য সরকারি কাজের চেয়ে এই কাজের মান ভালো হয়েছে বলে সাফাই গাইছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান খোকা জানান, রাজশাহী যুবলীগের বড় নেতা এই দাপটে কাজ করেছেন ঠিকাদার রমজান আলী। কাজ অত্যন্ত নি¤œমানের হয়েছে। নি¤œমানের ইট, খোয়া ব্যবহার ছাড়াও বেশী পরিমান বালু ও কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। প্যাটার্ণ স্টোন ঢালাই খুবই নি¤œমানের হওয়ায় পানি জমে মূল ছাদই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আব্দুল হাকিম নামে অপর একজন জানান, কাজের নকশা দেখতে চাইলেও তারা দেখাননি। ব্যাচসহ সব কাজে রডের পরিমান কম দেয়া হয়েছে। ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ অনেক কম দেয়া হয়েছে। খোয়া আর সিমেন্টের অনুপাত ৪:১ হওয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ৮:১। ফলে ভবনটি ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় আছে। নকশা দেখতে চাওয়ার অপরাধে তাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক রায়হান আলী অভিযোগ করেন, তিনি সিমেন্ট কম দেয়ার প্রতিবাদ করলে তাকে কাজ থেকে বাদ দেয়া হয়। এছাড়াও ডিজাইন বহির্ভূতভাবে নি¤œমানের বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহার ছাড়াও সেফটি ট্যাংকি, রঙ, দরজাসহ সব কাজেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, রেল বিভাগের কর্মকর্তাদের সহায়তায় নি¤œমানের কাজ করেছেন ঠিকাদার। প্রতিবাদ করলেও থানা থেকে পুলিশ আনা হতো। আর চিহিৃত কয়েকজন সন্ত্রাসী ভাড়া করে ভয় দেখানো হতো।
রোববার সরেজমিন ভবনটি দেখতে গেলে দেখা যায় আগামী ১৬ অক্টোবর কুড়িগ্রাম থেকে একটি আন্ত:নগর ট্রেনের উদ্বোধন উপলক্ষে তোড়জোড় চলছে নানা কাজের। এরমধ্যে ভবনটির যেসব অংশের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, তা চুনকাম করতে ব্যস্ত মিস্ত্রিরা। কার্যসহকারী আব্দুল ওয়াদুদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কয়েকজন পা দিয়ে ছাদের প্যাটার্ণ স্টোন (ওয়ারিং কোর্স) ভেঙে শুধু বালু বের করে আনেন। তিনি স্বীকার করেন কাজের মান ভালো হয়নি। তবে তদারকির দায়িত্বে তিনি ছিলেন না বলে দাবী তার।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহান আলী সরেজমিন ভবন পরির্দশন করে ভবনের দুরাবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভিআইপি রুমের দেয়ালে ফাটল ও রুমের ভিতর জমানো পানি সর্ম্পকে জানতে চাইলে স্টেশন মাষ্টার কাবিল উদ্দিন জানান, এই বিল্ডিং সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন। কে কখন হস্তান্তর করেছে তাও জানেন না। তাকে একটি রুম ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে মাত্র।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার রমজান আলীর সাথে কথা বলার জন্য তার ০১৭১২৫০২৩৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান চৌধুরী দাবী করেন, অন্যান্য সরকারি কাজের চেয়ে এই ভবনের নির্মাণ কাজ ভালো হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ঢালাই হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here