ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদে ভাঙ্গন; হুমকির মুখে শতশত পরিবার

0
46

ভূরুঙ্গামারী ব্যুরো:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদের ভাঙ্গনে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের প্রায় ৫০ টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় দুইশত বিঘা জমি।
দুধকুমার নদের কয়েকদিনের ভাঙ্গনে একটি আধা পাকা বাড়ি সহ অর্ধশত বাড়িঘর, ফসলী জমি, রাস্তা-ঘাট, গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ্এছাড়া ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে মসজিদ, কবরস্থান, প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ শতশত বাড়িঘর। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, ধান-চাল নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে নেয়ার পাশাপাশি গাছপালা কেটে সড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন রাস্তা ও উচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙ্গন রোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। স্বেচ্ছা শ্রমে জিও ব্যাগে বালু ভরে তা দিয়ে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরবরাহকৃত জিও ব্যাগ ভাঙ্গন রোধের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলেও জানান তারা।
নদী ভাঙ্গনের শিকার আলেমা, আলাউদ্দিন ও জামেনা বেগম জানান, আমাদের যা জায়গা-জমি ছিল নদী সব ভেঙ্গে নিয়ে গেছে, এখন আমাদের থাকার জন্য একটি ঘর উঠানোর জমিও নেই। আমরা ভিক্ষাও করতে পারছিনা অন্যের বাড়িতে কাজও করতে পারছিনা।
দুধকুমার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানারা বেগম মীরা জানান, জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে প্রায় ২ হাজার জিও ব্যাগ পাওয়া গেছে। সেগুলো দিয়ে প্রাথমিক ভাবে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চলছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ৩ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য বিগত বছরগুলোতেও দুধকুমার নদের ভাঙ্গনে শতশত বাড়িঘর ও জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে উপজেলা জুড়ে গৃহহীন ও ভূমিহীনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। দুধকুমার নদ তার আপন খেয়ালে গতি পথ পবিবর্তন করায় বিস্তৃর্ন এলাকা বালু চরে পরিণত হয়েছে। যা ভূরুঙ্গামারী উপজেলা তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগের পাশাপাশি ব্লক সরবরাহের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসি।
দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া হলে অচিরেই গ্রামের পর গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here