উলিপুরে ইঁদুরে সাবাড় আমন ক্ষেত

0
51

উলিপুর প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে চলতি মৌসুমে আমন ধান ক্ষেতের চারাগাছ কেটে সাবাড় করছে ইঁদুর। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখলেও তা ক্রমেই ফিকে হতে যাচ্ছে। ইঁদুর নিধনের জন্য জমিতে ফাঁদ কিংবা খ্ুঁটির মাথায় পলিথিন টাঙ্গিয়ে দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফসী ও স্থানীয় জাতের ধান চাষেবাদের প্রায় ৬৪ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে হাইব্রিড জাতের ৭৫০ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৭৭৯ মেট্রিক টন ধান, উফসী জাতের ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে ৫২ হজার ৬৭৮ মেট্রিক টন ধান ও স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৫৬১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা শনিবার উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত মালতিবাড়ি, পৌর এলাকার নারিকেলবাড়ি, মিনা বাজার, বকুল তলাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধান ক্ষেতে ব্যাপকভাবে ইঁদুর আক্রমন করেছে। অনেকের জমির বেশির ভাগ চারাগাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। জমির মাঝখানে ধান গাছ কেটে স্তুপ করে রেখেছে।
পান্ডুল ইউনিয়নের সিদ্ধাত মালতিবাড়ি গ্রামের কালিপদ বর্মণ (৫০) বলেন, “আইতত টিন ডাঙ্গেয়া, ফটকা ফুটিয়েও কোন কাম হবার নাগছে না। ৪০ শতক জমির ধান বোধায় মোর ছুঁচের প্যাটত যায়”। ওই গ্রামের নিধির চন্দ্র(৫৫) বলেন, ৬০ শতক জমির বেশিরভাগ চারা গাছ ছুঁচো(ইঁদুর) কেটে সাবাড় করেছে। একজনকে ৩০০ টাকা দিয়ে ৬ টি ইঁদুর মারছি, ওই লোক আরো ৫শত টাকা চেয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে বাঁশ দিয়ে নিজেই ফাঁদ তৈরি করছি। উলিপুর পৌরসভার নারিকেল বাড়ি এলাকার মাঈদুল ইসলাম বলেন, জমিতে বাঁশের খুটির মাথায় পলিথিন ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে কাঁক তাড়–য়া বানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। বিশাল আকৃতির এ ইঁদুরকে কোন কিছু দিয়েও কাজ হচ্ছে না। একই অবস্থা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্মিলিত ভাবে কৃষকদের ইঁদুর নিধন কিংবা জিংক ফসফাইড নামক কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here