চিলমারীতে পুড়ছে পলিথিন তৈরি হচ্ছে জ্বালানী তেল ও গ্যাস

0
84

চিলমারী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পুড়ছে পলিথিন, তৈরি হচ্ছে ডিজেল, প্রেট্রোল, অকটেন ও গ্যাস। পুড়ে যাওয়া পলিথিন থেকে জ্বালানী তেল তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে সারা জাগিয়েছেন উপজেলার কাঁচকোল নতুন গ্রামের মারুফ। এক চীনা ব্যাক্তির পরামর্শ আর ইন্টারনের্ট থেকে দেখা থেকে চেষ্টা, আর চেষ্টা থেকে মারুফের আবিস্কার এখন সবার মুখে মুখে শুধু তাই নয় পুরো উপজেলা জুড়ে ফেলেছে ব্যাপক সারা। দুর-দুরান্ত থেকে শত শত মানুষ এসে ভীড় জমাচ্ছে তার এই তৈরি করা পদ্ধতি ও জ্বালানি দেখতে। এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে বেকারদের বেকারত্ব দুর করার পরিকল্পনা এখন মারুফের মাথায়।
জানা গেছে, উপজেলার কাঁচকোল নতুন গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মারুফ। অভাবী সংসার তাই পড়াশুনার পাশাপাশি চাকুরীর চেষ্টার কমতি ছিল না। এর মধ্যে পড়াশুনা শেষ করলেও জোটেনি সরকারী চাকুরী। তাই বিভিন্ন স্থানে বে-সরকারী চাকুরী করেন। সরকারী চাকুরী না পাওয়া আর বে-সরকারী চাকুরীর মালিকের চাপ তার ভিতরে একটা ইচ্ছা শক্তি জাগিয়ে তোলে। তিনি নিজের এবং সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করবেন। এর মধ্যেই একটি কোম্পানীতে কাজ করার সময় পরিচয় হয় এক চীনা ব্যাক্তির সাথে। তিনি তাকে পলিথিন পুড়িয়ে ডিজেল, প্রেট্রোল, অকটেন ও এলপি গ্যাস তৈরি করার কথা বলেন। পরে মারুফ ইন্টারনেটে ভিডিও দেখেন এবং তা তৈরি করার সিন্ধান্ত নেন। সিন্ধান্ত থেকেই গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরিচিত দুইজন রিয়াজুল ও হাফিজুরকে সাথে নিয়ে শুরু করেন পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানী এই তেল, প্রেট্রোল, অকটেন ও গ্যাস তৈরির। পরিকল্পনা মোতাবেক পরিত্যক্ত পলিথিন যত্রতত্র ফেলে না দিয়ে এগুলো সংগ্রহ করে একটি আবদ্ধ প্রকোষ্ট ড্রামের ভিতরে রেখে আগুনে অতিমাত্রায় তাপ প্রয়োগ করে গলিয়ে ফেলা হয়। বাষ্পীয় হয়ে নল দিয়ে ডিজেল এবং পেট্রোল অকটেন বের হয়। সর্বশেষ পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হলে সেখানে আগুন দিলে আগুন লেগে থাকতো। যত তাপমাত্রা বেশী দেয়া হত তত বেশী তরল পদার্থ নির্গত হয়। সেই সাথে গ্যাস বের হয়। এসব সংগৃহীত তরল পদার্থ দুটি পদ্ধতিতে পরিশোধন করা হয়। এক ছাকন পদ্ধতি দুই থিতানো পদ্ধতি। এই তরল পদার্থ গুলো হাইড্রোকার্বন এবং এগুলোর ধর্ম এবং বর্ণ ডিজেল পেট্রোল অকটেন এবং নির্গত গ্যাস এলপি গ্যাস এর মতো। তার এই তৈরির কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এক নজর দেখতে ভিড় জমান মারুফের বাড়িতে। মারুফ জানান, প্রতিদিন ১শত কেজি পলিথিন পুড়িয়ে প্রায় ৮০ লিটার তেল তৈরি করা সম্ভব এর মধ্যে ডিজেল প্রায় ৬০ লিটার বাকিটা প্রেট্রোল, অকটেন ও গ্যাস। আর এই পদ্ধতি চালু রাখার জন্য টাকার প্রয়োজন এবং অনেক পলিথিন এর প্রয়োজন। এই জন্য মারুফ প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন। মারুফ আরো জানান এই পদ্ধতির মাধ্যমে বেকার সমস্যারও সমাধান হবে; তাই আশা করছি সকলের সহযোগীতা পাবো। এলাকার কয়েকজন জানান তারা এই পদ্ধতির তেল দিয়ে মেশিন ও গাড়ি চালাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here