তিন কিলোমিটার ভাঙ্গনে ৬০ মিটার ডাম্পিং সেই জায়গায় ফের তীব্র ভাঙ্গন

0
47

উলিপুর প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বসতবাড়িসহ প্রায় তিন শতাধিক একর আবাদী জমি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। এদিকে তিন কিলোমিটার ভাঙ্গনে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গন কবলিত ৬০ মিটার স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেন। এ নিয়ে কালেরকন্ঠ সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি ওই স্থানের পাশেই দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। বরাদ্দ না থাকায় ভাঙ্গন রোধে কিছুই করার নেই বলে জানান পাউবো কর্তৃপক্ষ।
বরিবার দুপুরে সরেজমিন উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নয়াদাড়া, কামারটারী, পালের ভিটা গিয়ে দেখা যায় ব্রহ্মপূত্র নদের ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন জনান, গত কয়েক মাসে ভাঙ্গন কবলিত প্রায় ৩ কিলোমিটার ব্যাপী স্থানে শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েক’শ একর আবাদী জমি নদী গর্ভে চলে। এ পরিস্থিতিতে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রি জাহিদ ফারুক ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে পাউবো কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড তিন কিলোমিটার ভাঙ্গনে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র ৬০ মিটার জায়গায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেন। কিন্তু সম্প্রতি পাউবো‘র ওই ডাম্পিং করা স্থানের পাশেই নতুন করে ফের ভাঙ্গন শুরু হলে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বসতবাড়িসহ আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে যায়। ওই এলাকার নিরাশা বেওয়া (৬০) বলেন, ‘বাহে ওমরা অল্পে একনাত বস্তা ফেলাইল,এ্যালা হামার বাড়ি-ঘর ভাঙ্গি যাবার নাগছে। কত কইলং হামার এত্তিও বস্তা ফেলান কিন্তু হামার কথা শোনে না।’ একই এলাকার একাব্বর আলী (৫২) বলেন, আটবার বাড়ি ভাংলং এবার নয়বার হবে। নদি ভাঙ্গা বন্ধ না হইলে হামার আর কোনঠাই যাবার জাগা থাকপের নয়’।
স্থানীয় খলিলুর রহমান বলেন, ভাঙ্গনের প্রতিকার চেয়ে আমরা ৬০-৭০ জন নদী পাড়ের মানুষজন স্থানীয় এমপির কাছে আসছি। যেন তাড়াতাড়ি ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা করেন।
হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, যেভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে এত দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা না নিলে ওয়াপদা বাধ সহ হাতিয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা নদী গর্ভে চলে যাবে।
উলিপুর পানি উন্নয়ন বোডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ কিলোমিটার ভাঙ্গনে ৬০ মিটার জায়গায় বালু ভর্তি জিও ব্যগ ডাম্পিং করা হয়েছে। পরবর্তীতে ৬০০ মিটারের টেন্ডার গৃহীত হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here