চিলমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কান্ড

0
49

চিলমারী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সকালে যা ছিল অবৈধ অজ্ঞাত কারনে বিকালে তা বৈধ। ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড়। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবু ছালেহ সরকারের বিরুদ্ধে এমনই একটি অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে স্কুল উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে উপজেলার ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে-রুটিন মেইনটেন্যান্স, মাইনর মেরামত, রাজস্ব মেরামত, প্রাক প্রাথমিক, ওয়াস ব্লক মেরামত ও স্লিপ গ্রান্ডের টাকা মিলে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। উক্ত সময় দায়িত্বে থাকা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বরাদ্ধের অর্থ ৯৩টি স্কুলের বিপরীতে বিভাজন করে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় পাশ করান। এই বিভাজনে রমনা ১ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে মাইনর মেরামতের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং রাজস্ব মেরামতের জন্য আরও দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্ধ সহ প্রাক প্রাথমিক এবং স্লিপ গ্রান্ড মিলে ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এই বিভাজনের পর বরাদ্ধের টাকা ভূয়া ভাউচার দিয়ে রাজস্ব অফিস থেকে উত্তোলন করে মাইনর ও রাজস্ব মেরামতের টাকা অফিস এ্যাকাউন্টে নেওয়া হয় এবং অন্যান্য খাতের টাকা সংশ্লিষ্ট স্কুলের এ্যাকাউন্টে ট্র্যান্সফার করা হয়। মাইনর ও রাজস্ব মেরামতের স্কুল প্রতি বরাদ্ধের অর্ধেক টাকা মেরামতের জন্য প্রথম পর্যায়ে ছাড় দেওয়া হয়
নবযোগদানকৃত শিক্ষা অফিসার মোঃ আবু ছালেহ সরকার বিভিন্ন স্কুলের কাজ সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ শাখাওয়াৎ হোসেন ও মোঃ জাহেদুল ইসলামকে সাথে নিয়ে পরিদর্শন শেষে রমনা ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাইনর মেরামত ও রাজস্ব মেরামত খাতের বাকী টাকা ছাড় না দিয়ে আটকিয়ে রাখেন।
এদিকে উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার কাজ শেষ হয়েছে মর্মে টাকা চাইলে শিক্ষা অফিসার বাকী টাকা প্রদানে বিধিগত সমস্যা আছে মর্মে কালক্ষেপন করতে থাকেন। পরে স্থানীয় শিক্ষক নেতারা উক্ত টাকা ছাড় দেওয়ার জন্য শিক্ষা অফিসারকে বলেন।
কিন্ত শিক্ষা অফিসার তাদেরকে জানান, বিধিগত ভাবে ছাড় দিতে হলে, হয় রাজস্ব, নয় তো মাইনর মেরামতের যে কোন একটি বরাদ্ধের টাকা ছাড় দেওয়া যাবে। শিক্ষক নেতারা ও প্রধান শিক্ষক তা মানতে রাজী না হওয়ায়, তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ অন্তে সিদ্ধান্ত নিবেন মর্মে জানান।
বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষা অফিসার মোঃ আবু ছালেহ সরকারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, একই বিদ্যালয়ের অধিনে মেরামতের জন্য বরাদ্দ থাকলে সেই বিদ্যালয়ে উক্ত সময় রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ বিধি সম্মত নয় তাই উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে বিষয়টা দেখা হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তিনি একই সাথে মাইনর মেরামত ও রাজস্ব মেরামতের বরাদ্ধের চেকে স্বাক্ষর করে রমনা ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নাজমা বেগমের সাথে মোবাইলে কথা বললে, তিনি ৩১ অক্টোবর বিকালে দুটি খাতেরই চেক পেয়েছেন মর্মে জানান। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসার আবু ছালেহ সরকারের নিকট জানতে চাইলে তিনি এর কোন সদুত্তর দেননি।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষা অফিসার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর বাজেট ও অডিট শাখার পরিপত্র ( যার স্মারক নং-৩৮.০০৬.০২০.০৭.০০.০৪৫.২০০৯-১৩৮ তারিখ ২০ মে ২০১৩খ্রিষ্টাব্দ ,বাংলা ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০বঙ্গাব্দ) দেখিয়ে বলেন, এই পরিপত্রের শর্তাবলী অথর্ বরাদ্ধের নীতিমালার ৮ নং নির্দেশনায় বলা হয়েছে“ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মেরামত কাজ চলছে অথবা মেরামতের জন্য তালিকা ভূক্ত এমন কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়/ প্রতিষ্ঠান বরাবরে রাজস্ব খাত থেকে অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া যাবে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণের সময় দ্বৈততা পরিহারের লক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় / প্রতিষ্ঠান মেরামত/ সংস্কার/ অবকাঠামো নির্মণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অর্ন্তভুক্ত নয় মর্মে উল্লেখ করতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here