ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমিটিতে বিতর্কিতদের স্থান

0
49

স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক কমিটিতে এক বিএনপি নেতার অন্তর্ভূক্তিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রকৃত স্বাধীনতার স্বপক্ষের মুক্তিযোদ্ধাদের পাশ কাটিয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ সরকারকে বর্তমান কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক করায় উপজেলা জুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য আঙ্গুল তোলা হচ্ছে এই উপজেলার সন্তান এবং সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটি’র সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির উপর।
তাদের দাবি বিতর্কিত এই নেতা এর আগেও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করায় ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের তালাশ টিম বিষয়টি জন সম্মুখে নিয়ে আসে। সেখানে সাংবাদিকদের নিবৃত করতে অর্থের প্রলোভন দেয়ার চেষ্টা করা ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ সরকারকে এবার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক কমিটিতে যগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। এনিয়ে ক্ষোভে ফেঁটে পরেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
এনিয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একাধিক মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারীকে কমিটিতে স্থান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যাকারী এবং ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঘাতকদের লালন পালনকারী স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রশ্রয়দাতা বিএনপি’র লোকজনকে কিভাবে আহবায়ক কমিটিতে স্থান দেয় তারা। যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডকে শক্তিশালী করতে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠন করা হয়েছে। সেখানে একজন বিতর্কিত বিএনপি’র মুক্তিযোদ্ধা কিভাবে কমিটিতে স্থান পায় তা এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
সাবেক ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জয়নুল উদ্দিন জানান, আব্দুল মজিদ সরকার ২০১৫ সালে বিএনপি’র আহবায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। সেই বছরে নির্বাচনে তিনি সরাসরি ভোট করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর আগে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নিয়োগে তিনি ওসমান গনির দালাল হিসেবে কাজ করেন। তাকে তুষ্ট করার জন্য ওসমান গনি তাকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি’র সংগঠন সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা কমিটিতে এই দালালকে ঢুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেন।
এ ব্যাপারে আব্দুল মজিদ সরকার জানান, আমি সাড়ে ৩ বছর পূর্বে উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি এখন কোন দলে নেই। আমি বাইরে অবস্থান করায় পদত্যাগ পত্রের কপি দেখাতে পারছি না।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহিন শিকদার জানান, দলে অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় আব্দুল মজিদ সরকারের সাথে দু’বছর ধরে কোন যোগাযোগ নেই। তিনি পদত্যাগ করেছেন কিনা আমার জানা নেই।
বর্তমান ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ও সাবেক সদর উপজেলা কমান্ডার মহি উদ্দিন আহমেদ জানান, কেন্দ্রিয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এখানে আমার কোন বক্তব্য নেই। আমি যতদূর জানি আব্দুল মজিদ সরকার আওয়ামীলীগের সাথে আছে। সে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছে কিনা আমার জানা নেই।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী জানান, আমার হাতে একটি আহবায়ক কমিটির কপি এসেছে। এটি সরকারিভাবে অনুমোদিত কিনা তা নিশ্চিত নই। তবে সদস্য করার বিষয়টি কাউন্সিলরদের। বিষয়টিতে সরকার জড়িত নয়। ফলে এখানে আমাদের জবাবদিহিতার কিছু নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here