কুড়িগ্রামে হলেখানা ইউনিয়ন কমিটিতে জাপা-বিএনপিদের স্থান : বঞ্চিতদের ক্ষোভ

0
142

স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সম্মেলনে বিতর্কিত নুরনবী নামে এক প্রভাবশালী জাপা নেতার কমিটির কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে। দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং-এর কারণে নিজেদের পদ-পদবী আঁকড়ে ধরে রাখতে ইউনিয়ন আ’লীগ নেতারা প্রকাশ্যে ওই নেতাকে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে হলোখানা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কমিটিকে গত ৯ নভেম্বর বাতিল করেছে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ। কিন্তু এ ব্যপারে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য হলোখানা ইউনিয়ন আহবায়ক কমিটির।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি পত্রে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের দলে না নেয়ার জন্য আহবান জানান। এছাড়াও মাদকাশক্ত, মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং বিভিন্ন দলীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহনকারী ও দলের বিরোধীতাকারীদের কমিটিতে স্থান না দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দিলেও মানছেন না কেউই। নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নেড়ে বিতর্কিত করছেন দলকেই এমন অভিযোগ অপর শীর্ষ নেতাদের।
সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল জানান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতারা ত্রি-বার্ষিক ওয়ার্ড সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নেতা ও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নুরনবী সরকার ও তার স্ত্রী মাহবুবা বেগম লাভলীকে মঞ্চে তুলে পেশী শক্তি দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠনে সহযোগিতা করছেন। তার উপস্থিতিতে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটিতে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দলীয় লোকজনকে পদ-পদবী দেয়া হচ্ছে। তিনি আরোও দাবী করেন, ৭নং ওয়ার্ড কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে সাবেক জাপা সদস্য ও বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য অটো ড্রাইভার নুর ইসলামকে। তার সদস্য হওয়ার বিষয়টি টেলিফোনে স্বীকার করেন ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদ। এই নুর ইসলাম ১৯৯৯ সালের ২০ এপ্রিল তৎকালিন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর জামালের উপর হামলা চালিয়ে তার ডান হাত অকেজো করে দেন। সেই হামলায় নেতৃত্ব দেন জাপা নেতা, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক চেক জালিয়াতি মামলার আসামী নুরনবী। সেই বিতর্কিত নুর ইসলামকে ৭নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় পার্টি ও হিরোইন নূরনবীর কট্টর সমর্থক ও ইউনিয়ন বিএনপি’র ৪৫ নং সদস্য ছাইদুর রহমানকে দেয়া হয়েছে ৯নং ওয়ার্ড সেক্রেটারী’র পদ। যিনি ২০১৯ সালের ২৯ মে আইসিটির মামলায় ৭দিন হাজতবাস করেন।
এছাড়াও ২নং ওয়ার্ডে সভাপতি করা হয়েছে এই ইউনিয়নে ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস ছামাদের পূত্র রবিউল ইসলামকে। যিনি প্রকাশ্যে হাতপাখার পক্ষে কাজ করেছেন। অপরদিকে সেক্রেটারী করা হয়েছে হলোখানা ইউনিয়ন বিএনপি’র ২৪ নম্বর সদস্য রফিকুল ইসলামকে।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, বর্তমান হলোখানা ইউনিয়ন আ’লীগ কমিটির আহবায়ক আব্দুল জলিল একজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। ২০১৭ সালে খুন ও পাল্টা খুনের মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলা নং-৭৩৪/২০১৭। পুলিশ তাকে খুঁজছে। অপরদিকে যুগ্ম আহবায়ক ছোলদার হোসেন একজন মাদক পাচারকারী ও নারী নির্যাতনকারী। ভারতীয় মালামালসহ পুলিশের হাতে ধরা পরেন তিনি। মামলা নং-ট্রাইব্যুনাল ১৪/৯ এবং পারিবারিক নির্যাতন মামলায় অভিযুক্ত। মামলা নং-২৬/৭। বর্তমানে তিনি পাশর্^বর্তী বেলগাছা ইউনিয়নে বসবাস করছেন। এরুপ বিতর্কিত ব্যক্তিরা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার কারণে জাপার কাঁধে চরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি সমর্থকদের নিয়ে কমিটি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ত্যাগী নেতারা বাদ যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জেলা পর্যায়ের নেতারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন এটাই প্রত্যাশা বঞ্চিতদের।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে হলোখানা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছোলদার হোসেন জানান, যারা আপনাদের কাছে তথ্য সরবরাহ করেছে তারা কেন আমাদেরকে জানাননি। আর জাপা নেতার বিষয়ে বলেন কেউ মঞ্চে উঠলে আমরাতো নিষেধ করতে পারি না। কিছু ব্যক্তি কমিটিতে স্থান না পওয়ায় এসব কাদা ছোড়াছুড়ি করছে। আদৌ এর সত্যতা নেই। অপরদিকে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আকতার হোসেন চীনু জানান, জেলার নেতাদের ইন্ধনের কারণে জাতীয় পার্টির মাদক স¤্রাট হিরোইন নুরনবীকে মঞ্চে তোলা হচ্ছে। সদর উপজেলা কমিটির সেক্রেটারী সালেহ আহমেদ মজনুসহ আমরা ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রম তদারকী করতে গিয়ে মঞ্চে তাকে দেখে ফিরে আসি। এ ব্যাপারে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাইনি। ফলে সেন্ট্রালে অভিযোগ করেছি। এছাড়াও অনিয়মের প্রেক্ষিতে সদর উপজেলা কমিটি কর্তৃক ৯ নভেম্বর হলোখানা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here