কাজের সন্ধানে চিলমারী ছাড়ছে দিনমজুরেরা

0
58

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী:
কন না বাহে বন্যা আর বৃষ্টিতে বইসে বইসে দিনপার করেছিলাম। বহুত কষ্টে দিন পার করতে নাগছে। ‘এলাকাত তেমন কাজকাম নাই। সুদের উপর টাকা তো নেয়া আছেই এর উপর ধারদেনা করতে করতে কাহিল হয়া গেছি। সরকারী ভাবে মাটি কাটার কামও শুরু হইলেও তা তুলনা মুলক অনেক কম। এমন করি কি আর জীবন বাচে বাহে। এই জন্য ধান কাইটপ্যার জন্য হামরা বিদেশ যাবার নাগছি। আমার এলাকার অনেকে ইতি মধ্যে চলিও গেছে। কথা হয় রমনা নৌকা ঘাটে নৌকা ও রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপক্ষায় থাকা বেশ কয়েকজন দিনমজুরের সাথে। এছাড়াও কথা হয় বাসের অপেক্ষায় থাকা মাছাবান্দা গ্রামের দিনমজুর সৈয়দ আলীর সাথে। কথায় কথায় কথা গুলো বলেন তারা। নৌকা ঘাট, রেল স্টেশনসহ বাস কাউন্টার গুলো ঘুরে দেখা গেছে দিনমজুরদের ভির। সকলেই ছুটছে কাজের সন্ধানে। তবে এই বিদেশ তাদের কাছে ময়মনসিংহ, জামালপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান। সৈয়দ আলীর মতো শত শত শ্রমিককে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে। তারা এসেছেন চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে। শ্রমিকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন এলাকার দিনমজুর শ্রমিকরা উপজেলার বাইরে যাচ্ছেন। কাজের সন্ধানে কম ভাড়ায় ‘বিদ্যাশ’ যাওয়া এই দিনমজুরদের বাস শ্রমিকরা নাম দিয়েছে ‘মফিজ’। ‘নরমাল’ গাড়িখ্যাত অর্ধশত বাস এ ধরনের প্যাসেঞ্জার পরিবহন করে টিকে আছে। এই দিনমজুররা বছরে অন্তত দুবার এই দেশের ভেতর ‘বিদেশ’ গমন করেন। আর কর্মস্থলে থাকেন দুই- তিন মাস। এরপর উপার্জিত অর্থে সুদে আসলে দাদনের টাকা মিটিয়ে আবারও কপর্দকশূন্য হয়ে পড়েন। দিনমজুরা জানান, এখনো এলাকায় সেই ভাবে ধানকাটা শুরু হয়নি। টিআর কাবিখাসহ গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণকাজও শুরু হয়নি এখনো। তাই দিনমজুরদের হাতে কাজ নেই। কাজের সন্ধানে প্রতিদিন দিনমজুররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে বসে ছুটছে বিভিন্ন এলাকায়। কোথাও ধান কাটার খবর পেলে দলবদ্ধ হয়ে কাচি, বাকুয়া আর ব্যাগ নিয়ে আসছে বাস টার্মিনালসহ স্টপেজগুলোতে। দিনমজুররা জানান, আমন ধান রোপণের পর থেকে মাঠে তেমন কোনো কাজ নেই। তার ওপর দফায় দফায় বন্যার কবলে পড়ে বিপর্যস্ত তাঁরা। ধারকর্জ করে বেকার সময়টা কোনোমতে পার করলেও এখন আবার চড়া সুদে দাদন নিয়ে পথ খরচার ব্যয় মেটাতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিন বেকার থাকায় পথ খরচার টাকাও নেই অনেকের। দাদন নিয়ে পথে বেরুনো দিনমজুর তাই কম খরচে যেতে চান গন্তব্যে। পানি পথে, ট্রেনের ছাদে এরকম ফ্রি আর বাসের ছাদে হাফ ভাড়া তাই জীবিকার এই যাত্রায় জীবনের ঝুঁকি নিতেও আপত্তি নেই তাদের। তবুও যেতে হবে কাজের জন্য করতে হবে কাজ পেটে দিতে হবে ভাত তাই ছুটছে তো ছুটছেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here