কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস

0
190

নতুন প্রশ্নে আধা ঘন্টা পর পরীক্ষা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার:
এবার জেলা শহর কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণির মধ্যে ৩য়, ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় অভিভাবক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, গত শনিবারের পরীক্ষা বিলম্বে শুরু হওয়ার ব্যাপারে তাদের সন্তানরা অভিভাবকদের জানায়। পরে অভিভাবকরা খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন গত শনিবার ও গতকাল রোববার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারনে নতুন করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে ছাত্রীদের মধ্যে সরবরাহ করতে বিলম্ব হয় বলে শিক্ষকরা জানান।
প্রধান শিক্ষক রুখসানা পারভীন জানান, অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি তাৎক্ষণিক জানতে পেরে নতুন প্রশ্নপত্র বিদ্যালয়েই তৈরি করে পরীক্ষা বিলম্বে শুরু করা হয়। অভিভাবকরা জানান,এই বিদ্যালয়ে কতিপয় শিক্ষক যারা ৩য় শ্রেণি ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি কোচিং বাণিজ্যে জড়িত এবং কোচিং সেন্টারে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পড়ান তারাই এ কাজ করেছেন বলে তাদের ধারনা।
তারা উল্লেখ করেন, এ বিদ্যালয়ের সিনিয়র গণিত শিক্ষক আফরোজা বেগম কোচিং ও ৩য়-৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি কোচিং এর সাথে দীর্ঘদিন যাবত তার নিজ বাড়ির পাশে ভাড়া বাসায় কোচিং এ পড়ান।একই বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষক আব্দুল আজিজ সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক কোচিং এবং ভর্তি কোচিং ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়াও অন্যদিকে, নুনখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুয়েল ঘোষপাড়ায় একটি কোচিং সেন্টারে দায়িত্বে নিয়োজিত।
অভিভাবকরা জানান, এই তিন কোচিং সেন্টারের উল্লেখিত শিক্ষকগণ এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে সরাসরি জড়িত। তাদের সন্তানরা গত পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্ন কমনের বিষয়টি সেইসব কোচিং এ পড়া শিক্ষার্থীদের কাছে প্রমাণ পায়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুখসানা পারভীন প্রশ্ন ফাঁসের কথা স্বীকার করে জানান, রোববার পরীক্ষার শুরুর আগে পুনরায় প্রশ্ন তৈরি করে সকাল ১০টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টায় পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। আগামীতে যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয় সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তিনি অভিভাবকদেরকে পরবর্তী দুইটি পরীক্ষা নতুন প্রশ্নে নেবার আশ্বাস প্রদান করেন।
শিক্ষকদের কোচিং সেন্টারে জড়িত প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক অঙ্গিকারনামা দিয়েছেন। এরপরও যদি বিদ্যালয়ের বাইরে কোন শিক্ষক কোচিং এর সাথে জড়িত থাকেন সে দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের।
তিনি আরো বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বিলম্বে নেয়ার বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here