ভূরুঙ্গামারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন

0
114

ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি:
‘এসো মিলি প্রাণে প্রাণে’ এই স্লোগানকে কন্ঠে ধারণ করে নানা আয়েজনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ভূরুঙ্গামারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব পালন শুরু হয়েছে।
শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রোববার সকালে বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভা যাত্রায় বিদ্যালয়ের নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় বিদ্যালয় মাঠ মিলন মেলায় পরিণত হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে বিদ্যালয়কে বর্ণিল আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়। দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা ও উৎসব পতাকা উত্তোলন, নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুন্শি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ্য সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী, জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, জেলা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিষ্ট্রার ও শত বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
উল্লেখ্য ১৯২০ সালে ভূরুঙ্গামারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন একটি সরকারি দাতব্য চিকিৎসালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম ওহায়েদ তরফদার (পাবনা জেলা) এই অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ও তৎকালীন ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তাহের উদ্দিন সরকার, পাইকেরছড়া ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নঈম উদ্দিন সরকার, শিক্ষানুরাগী ছফর উদ্দিন মন্ডল, বাবু হর কান্ত রায়, জমিদার শ্রীমন্ত সরকার, ব্যবসায়ী শিউজি রাম চোপরা ও শ্যামল চোপরা সহ এলাকার গুণীজনেরা ১ জানুয়ারী ১৯২০ সালে ভূরুঙ্গামারী মাইনর ইংলিশ স্কুল (৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত) প্রতিষ্ঠা করেন। পরর্বতীতে ১৯৩৪-৩৫ সালে নলেয়া মৌজায় জমি ক্রয় করে স্কুলটিকে পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুল হিসেবে চালু করা হয়। ওই সময়ই হাই স্কুলটি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে। নদী ভাঙ্গনের ফলে ১৯৬৪-৬৫ সালে স্কুলটিকে বর্তমান স্থান আনা হয় এবং ভূরুঙ্গামারী পাইলট হাই স্কুল নামে পরিচিতি লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ২৮ মে স্কুলটিকে সরকারি ঘোষণা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here