বোরো চাষ নিয়ে সঙ্কিত কৃষক বাড়ছে জ্বালানির দাম

0
55

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী:
দীর্ঘদিন থেকে তেল শূন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আওতাধীন কুড়িগ্রামের চিলমারী ভাসমান ডিপো। দেখা দিয়েছে ডিজেলের তীব্র সংকট। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের মূল্য বোরো আবাদ নিয়ে সঙ্কিত কৃষক। ব্রহ্মপুত্র নদে স্থাপিত মেঘনা প্রেট্রোঃ ও যমুনা ওয়েল কোম্পানীর বার্জ দুটি নিয়মিত ভাবে তেল সরবরাহ না করায় প্রায় সময় তেল শুন্য পড়েই থাকে বার্জ গুলো। নজর নেই কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা ও তেল বাহী জাহাজ সংকট থাকায় নিয়মিত ও সঠিক সময় তেল সরবরাহ হচ্ছেনা বলে ডিপো সুত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, চিলমারী ভাসমান ডিপোতে জ্বালানীতেল না থাকায় কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর সহ কয়েকটি উপজেলায় ডিজেলের সরবরাহ নেই। এদিকে ডিজেল সরবরাহ না থাকার কারনে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ২থেকে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিলমারী ভাসমান যমুনা ডিপো সূত্রে যানা গেছে গত ২ ডিসেম্বর/১৯ কোম্পানীর একটি জাহাজ ৫ লক্ষ ২হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ এসেছিল তা গত ৮ জানুয়ারী শেষ হয়। এবং মেঘনা ডিপো সুত্র জানায় তাদের একটি জাহাজ ২লাখ ৫৪ হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে ২২ ডিসেম্বর/১৯ এসেছিল তা ৮জানুয়ারী/২০২০ শেষ হয়। তখন থেকে ডিপোদুটি তেল শূন্য হয়ে পড়ে আছে। চিলমারী ভাসমান ডিপোতে ডিজেল না থাকায় চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর উলিপুর উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী গাইবান্দা ও জামালপুরের বিভিন্ন হাট বাজারের তেল শূন্য হয়ে পড়েছে। তেল ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া খচর করে পারবর্তীপুর ও বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে জ্বালানী তেল সংগ্রহ করছেন তবুও রয়েছে তীব্র সংকট। ফলে তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে খুচরা বব্যসায়ীদের কাছে তার প্রভাব পড়ছে সাধারন কৃষকের উপর। এই ভরা মৌসুমে জমি চাষ করে বোরো লাগাতে সেচ দিতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় কৃষকরা জমি চাষ করে সেচের জন্য অপেক্ষা করছে। অনেকে জমি ফেলেই রেখেছেন। উপজেলার পুটিমারী এলাকার শ্যালো চালক আঃ মজিদ বলেন আমার অধিনে প্রায় ১৫ একক জমি রয়েছে এগুলো চিনা, গম ও ইরির আবাদ রয়েছে এতে করে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল লাগে কিন্তু ডিপোতে তেল না থাকায় তেলের সংকটের সাথে লিটার প্রতি ৫ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। বাধঁ, রাজারভিটা, শরিফেরহাট, পুটিমারী এলাকার কৃষক আঃ খালেক, রঞ্জু, ইদ্রসসহ অনেকে জানান জমিতে হাল দেওয়া হয়েছে পানি দিতে পারছিনাএছাড়াও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি এরপরও সময় মতো তেল পাচ্ছিনা। চিলমারী উপজেলার তেল ডিলার সামিউল ইসলাম সোহেল, ফুলবাবু সহ কয়েকজন ডিলার জানান ডিপোতে তেল না থাকায় পারবর্তীপুর ও বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে এত অতিরিক্ত পরিবহন ভারা খরচ হচ্ছে সময়ও লাগচ্ছে বেশি। একটি সুত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভাসমান তেল ডিপো পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি কোম্পানী স্থাপিত করেন। তখন কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলায় তেল সরবরাহ করে আসছিল। পরে অজ্ঞাত কারনে পদ্মা তেল কোম্পানীটি বার্জ সরিয়ে নেয়। এরপর থেকেই মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী দুটি এ অঞ্চলে তেল সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু নানান অজুহাত ডিপো ইনচার্জ ও কর্মচারীদের মাঝে দ্বন্দ্ব, ইচার্জদের গাফলতি এছাড়াও ডিলাদেরও অন্তদ্বন্দ্বের জন্য বেশির ভাগ সময় বার্জ গুলো তেল শূন্য থাকে বলে দাবি করেন সচেতন মহল। এছাড়াও তেল আসলেও দ্রুত শেষ হওয়ার কারনও রহস্য থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। তবে ডিপো ইনচার্জরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে তেলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানান। কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে এবারে বোরোর লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ১৩৪ হেক্টর এর মধ্যে ১হাজার ২৪৪টি শ্যালো চালিত ডিজেলের উপর নির্ভর ৪হাজার হেক্টরের অধিন জমি। তবে তেল সংকট থাকলে লক্ষমাত্রা অর্জিত নিয়ে সঙ্কিত তারা। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডাব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন ডিপো তেল শূন্য বিষয়টি আমার জানানেই তবে দ্রুত যেন তেল আসে এব্যাপারে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সিন্ধান্ত নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here