কুড়িগ্রামে জাল সনদে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরি করার অভিযোগ

0
176

স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও চিলমারী উপজেলায় শিক্ষা বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে ২জন জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরি করার পাশাপাশি বেতনভাতা উত্তোলন করে আসছেন। এই বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অভিযোগ করলেও মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা চেষ্ঠা অভিযোগ উঠেছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সোনাহাট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী শাহিদা বেগমকে প্রভাব খাটিয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন ২০১১সালে।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, শাহিদা বেগম ১৯৯০ সালে বলদিয়া দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তিনি উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করেন এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (অনার্স) এবং বিএড সনদ নেন। শিক্ষক নিবন্ধন জাল সনদ সংগ্রহ করে সহকারি শিক্ষকের পদে স্বামীর সহায়তায় নিয়োগ নেন। নিয়োগ নিলেও সনদ জাল হওয়ায় তৎকালিন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমপিও ভূক্তির সুপারিশ করেননি। পরে কৌশলে শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ২০১২ সালে শাহিদা বেগমকে এমপিও ভূক্ত করান তার স্বামী প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি আকতার হোসেন জানান, ২৪ ডিসেম্বর শাহিদা বেগমের নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য এনটিআরসিএ বরাবর আবেদন একটি আবেদন করেন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে তদন্ত হয়। পরবর্তিতে এনটিআরসিএ-র সহকারী পরিচালক স্বাক্ষরিত ২০জানুয়ারি পত্রে শাহিদা খাতুন, পিতা-এন্তাজ আলী মন্ডল,রোল-৩০৭১১৫৪৭, রেজিস্ট্রেশন ও সন ৯০০৩৩৮৭৯/২০০৯, পরীক্ষা নং- ৫ম, রেজিঃ পরীক্ষা-২০০৯ সহকারি শিক্ষক, সমাজ বিজ্ঞান এর নিবন্ধন সনদটি সঠিক নয়। উত্তীর্ণ রোল নম্বরটি অন্য ব্যক্তির (মোছাঃ সুলতানা খাতুন, পিতা- রবিউল ইসলাম এর)। পত্রে আরো বলা হয়েছে জাল ও ভুয়া সনদধারী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে মামলা দায়ের পূর্বক অত্র অফিসকে জানাতে বলা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে কমিটির একাধিক সদস্য জানান, প্রায় ২মাস হলো মামলা করার চিঠি সভাপতি পেয়েছে।কিন্তু সে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মামল করতে গরিমসি করছেন। এছাড়াও নিয়ম বর্হিভূতভাবে আলমগীর হোসেন প্রধান শিক্ষকের পদটি হাছিল করেন। পদ পাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের অথ আর্ত্নসাৎ করে বিপুল অর্থের মালিক বনে গেছেন। বিদ্যালয় সংলগ্ন রাজকীয় একটি বাড়ি বানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শাহিদা বেগম বলেন, আমার সনদ জাল হলে এমপিও ভূক্তি হয় কিভাবে? তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটি তার জানা নেই বলে জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি উদ্ধুত্তপূর্ণ আচরণ করে বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তারাই ভালো জানেন। আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। আমি কিছুই বলতে পারবো না।
অপরদিকে চিলমারী উপজেলায় থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে চাকুরি নেন জাল সনদ দিয়ে চাকুরি নেবার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন সুরহা পাননি অভিযোগকারী। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর উক্ত বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে চাকুরি নেন আঞ্জুমান আরা। চাকুরিতে যোগদানের পর ২০১৬সালে ১১২৮৩৬৭ ইনডেক্স নম্বরে এমপিও ভুক্ত হবার পর থেকে নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করে আসছেন। তিনি ২০০২ সালের এসএসসি পাশ করলেও ২০১২ সালে খুলনা থেকে ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্সের সনদটি জমা দেন। যার রোল নং-২০১২০১২, রেজি: নং-১২০০০১৬।
অভিযোগকারী আইয়ুব আলী বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি সহকারি গ্রন্থাগারিক আঞ্জুমান আরা তার চাকুরিতে প্রদানকৃত সনদ গুলোর মধ্যে ইন্সটিটিউট অব ইডুকেশন লাইব্রেরী এন্ড ম্যানেজমেন্ট (আইইএলএম) সনদটি জাল। কেননা এই সনদে নাম ঠিক থাকলেও পিতা ও ঠিকানা ভিন্ন। ডিপ্লোমার সনদ অনুযায়ী দেখাযায়, মোছাঃ আঞ্জুমান আরা। পিতা-আহাম্মদ আলী, ঠিকানা খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায়। আঞ্জুমান আরা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, নিয়োগ বোর্ড কমিটিকে ম্যানেজ করে চাকুরির নেন।
বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী গ্রন্থাগারিক আঞ্জুমান আরার সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলী জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেননা আমার যোগদানের পূর্বে আঞ্জুমান আরা সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আমার কাছে কেউ লিখিত কোন অভিযোগ করেননি।
জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম বলেন, জাল সনদ দিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার চাকুরি চলে যাবে। এবং মামলাও হবে। চিলমারীর বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে। তবে ভূরুঙ্গামারীর বিষয়ে আমার জানা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here