চিলমারীতে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অর্থ বাণিজ্য

0
64

চিলমারী প্রতিনিধি:
চিলমারীতে চলতি এসএসসি এবং দাখিলের ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংশ্নিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাপের মুখে টাকা দিতেও বাধ্য ছিল শিক্ষর্থীরা। টাকা না দিলে ফেল করিয়ে দেওয়া হতে পারে- এমন আশঙ্কায় পরীক্ষার্থী-অভিভাবক কেউ এ বিষয়ে প্রতিবাদ করছেন না। করলেও প্রতিকারের বদলে মিলছে হুমকি।
কয়েকজন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী জানায়, লিখিত পরীক্ষার শেষ ২৯ ফেব্রুয়ারী/২০২০ থেকে শুরু হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। শুরু থেকেই পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞান শাখায় একশত থেকে দেড়শত ও মানবিক ও ব্যবসা শাখায়ও অনুরুপ করে নিয়ে যেতে বলেছেন তাদের নিজ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সংশ্নিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা। টাকা না দিলে ফেল করিয়ে দেওয়া হতে পারে-এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বাধ্য হয়ে তারা পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষক ও শিক্ষকদের কাছে ওই টাকা জমা দিতে বাধ্য হয়েছে। স্কুল ও মাদ্রাসার কেন্দ্রের একাধিক পরীক্ষার্থী জানায়, শিক্ষকরা তাদের কাছ থেকে প্রতিটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় একশত থেকে দেড়শত টাকা নিয়েছেন। কেউ কম দিতে চাইলেও শিক্ষকরা নেননি। আর এই টাকা নিয়ে অভিভাবকদের সাথে শিক্ষার্থীদের ঝগড়াও হয়েছে বলেও জানান বেশ কিছু শিক্ষার্থী। অনেক অভিভাবক সারদিনের পরিশ্রমের টাকাও তুলে দিয়েছে ছেলে মেয়ের হাতে। ছেলে মেয়েরা বাবার কষ্টের উপার্জনের টাকা তুলে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের হাতে। থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও থানাহাট এ ইউ পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা আদায় এখন যেন ‘নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাম না জানা সর্তে কয়েকজন প্রধান শিক্ষক বলেন ১শত করে টাকা নেয়া হয়েছে তা খরচের জন্য। থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব আবু তৈয়ব আলী বিষয়টি এড়িয়ে বলেন যারা দিচ্ছে তারা (পরীক্ষার্থীরা) খুশি হয়েই হয় তো দিচ্ছে। রাজারভিটা ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মিনহাজুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। থানাহাট এ ইউ পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও দেখা পাওয়া যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু তাহের বলেন, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ সাথে কথা হলে তিনি জানান বিষয়টি আমার জানা নেই তবে ক্ষতিয়ে দেখবো এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here